Published on
:
2 min read
ঘরোয়া ক্রিকেটে লাল বল হাতে একের পর এক উইকেট শিকার করে নিজের জাত চেনাচ্ছেন মহম্মদ সামি। চলতি সপ্তাহেই রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচে দিল্লির শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে বল হাতে আগুন ঝরিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন, শুধু উইকেট নেওয়া নয় কম রান দিয়েও বিপক্ষকে চাপে ফেলেছেন। তবুও নির্বাচকদের মন গলেনি। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন দুই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ়ের দল থেকে ব্রাত্য রাখা হলো তাঁকে। ৩৬ বছর বয়সি এই তারকাকে উপেক্ষা করে তরুণ অংশুল কম্বোজ এবং আকাশ দীপকে স্কোয়াডে নেওয়া হতেই ক্ষোভে ফুঁসছে ভারতীয় ক্রিকেটমহল। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন প্রাক্তন ভারতীয় তারকা ব্যাটার মহম্মদ কাইফ।
‘স্বচ্ছতা নেই বোর্ডের কাজে’
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ়’-এর এক লাইভ শো-তে অংশ নিয়ে BCCI ও নির্বাচক কমিটির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি তোপ দাগেন কাইফ। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেন, নির্বাচক প্রক্রিয়ায় কোনও প্রকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে না। কাইফ বলেন, ‘আজকাল দল নির্বাচনের পর কেউ কোনও কথা বলে না। খেলোয়াড়রা শুধু একটা ইমেল বা চিঠি পেয়ে যায় যে অমুক দল নির্বাচিত হয়েছে, ব্যস এটুকুই। কোনও পাবলিক স্টেটমেন্ট নেই, সাংবাদিক বৈঠক রাখা হয় না। কোনও নির্বাচক বা বোর্ড কর্তা সামনে এসে ব্যাখ্যা করেন না কেন একজন অভিজ্ঞ পারফর্মারকে বারবার বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটায় স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।’
২০২৩ সালের ODI বিশ্বকাপে সামির অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কাইফ বলেন, ‘আমরা যদি সামির কথা বলি, ও বিশ্বের যেকোনও বড় মঞ্চের প্রমাণিত চ্যাম্পিয়ন বোলার। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে যদি মহম্মদ সামি বল হাতে না থাকতেন, তবে ভারত কোনও অবস্থাতেই ফাইনালের মুখ দেখতে পেত না।’
বুমরা সুবিধা পেলে সামি কেন নয়?
একাধিক রিপোর্টে প্রকাশ, টিম ম্যানেজমেন্ট দাবি করছে শামি নাকি টেস্ট ম্যাচে লম্বা স্পেলে বল করতে পারছেন না। এই যুক্তিকে উড়িয়ে দিয়েছেন কাইফ। জশপ্রীত বুমরার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি কোথাও একটা পড়লাম যে সামি নাকি কেবল ছোট স্পেলে বল করতে পারছে বলেই ওকে টেস্টে ভাবা হচ্ছে না। এটা কেমন যুক্তি? জশপ্রীত বুমরাও তো টেস্টে টানা বল করে না, ছোট ছোট স্পেলে বল করে বিশ্রাম নেয়। ইংল্যান্ড সফরে যখন বুমরার ওয়ার্কলোড সামলানো হচ্ছিল, শুভমান গিল ওকে তো ছোট স্পেলেই করিয়েছিল। তা সত্ত্বেও তো বুমরাহ প্রভাব ফেলছে। তাহলে সামি ছোট স্পেলে বল করলে সমস্যা কোথায়? ও তো চার-পাঁচ ওভারের স্পেলেই খেলা ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।’
একই সঙ্গে কাইফ দাবি করেন, ভারতীয় স্কোয়াডে সামি না থাকায় সবচেয়ে বেশি খুশি হবে কিউয়ি দল। তিনি বলেন, ‘নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটারদের সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করুন, ভারতের কোন বোলারকে তারা সবচেয়ে কম মোকাবিলা করতে চায়। চোখ বন্ধ করে প্রথম যে নামটি আসবে, তা হলো মহম্মদ সামি। ২০২৩ বিশ্বকাপের লিগ পর্বে ধর্মশালায় ও একাই ওদের গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, আর ওয়াংখেড়ের সেমিফাইনালের বিধ্বংসী ৭ উইকেটের কথা তো কারও ভোলার নয়। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, শামি নিউ জ়িল্যান্ড সফরে আসছে না শুনে কিউয়ি ব্যাটাররা গভীর এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।’
