ফৌজদারি মামলায় তল্লাশি ও জব্দের ক্ষেত্রে আইন নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ বাধ্যতামূলক বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩(১) ধারা অনুযায়ী, তল্লাশির সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্তত দুজন সম্মানিত বাসিন্দার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে তল্লাশি ও জব্দ পরিচালনা করা হলে তা বেআইনি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ফৌজদারি বিচারে এ ধরনের কার্যক্রমের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।মোছা. রত্না খাতুন বনাম রাষ্ট্র মামলায় দেওয়া এক রায়ে হাইকোর্ট বিভাগের এ বক্তব্য উঠে এসেছে। মামলাটির নম্বর ক্রিমিনাল রিভিশন নং ২৩০৯/২০১৬। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রায়টি প্রকাশিত হয় ১১ অক্টোবর ২০২৬।
রায়ের মূল বক্তব্য অনুযায়ী, তল্লাশির সময় শুধু স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; তল্লাশি ও জব্দের পুরো প্রক্রিয়ায় তাদের উপস্থিতি থাকতে হবে। সাক্ষীরা আসার আগে তল্লাশি বা জব্দের কার্যক্রম পরিচালনা করা কিংবা তারা চলে যাওয়ার পর এসব কার্যক্রম চালানো হলে আইনি শর্ত পূরণ হয় না।
আদালতের এ বক্তব্যে ফৌজদারি কার্যবিধির নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কারণ, ফৌজদারি মামলায় কোনো আলামত সংগ্রহের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।তল্লাশি ও জব্দের ক্ষেত্রে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিধান মূলত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত। আইন নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ কমে। অন্যদিকে, বিধান লঙ্ঘন করে আলামত সংগ্রহ করা হলে তার বৈধতা ও বিচারিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেছেন এ ধরনের রায়ের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমে আইনি বিধান অনুসরণের বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও এর সঙ্গে জড়িত।
হাইকোর্টের এ রায় ফৌজদারি মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তল্লাশি এবং জব্দের আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
The post সাক্ষী ছাড়া পুলিশের তল্লাশি ও জব্দ বেআইনি: হাইকোর্ট appeared first on Mohona Tv.
