বলিউডের ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিতকে নিয়ে জল্পনা বা উন্মাদনার অন্ত ছিল না এক সময়। কিন্তু সেই নায়িকার মন যে এভাবে নিমেষে চুরি করে নেবেন এক প্রবাসী মার্কিন চিকিৎসক, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি কেউ। সম্প্রতি কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক ফারহা খানের কুকিং ভ্লগে অতিথি হয়ে এসে নিজেদের লভ স্টোরির এমন কিছু অজানা ও রোমাঞ্চকর তথ্য ফাঁস করলেন স্বয়ং মাধুরী এবং তাঁর স্বামী ডা. শ্রীরাম নেনে, যা শুনে তাজ্জব বনে গেছেন অনুরাগীরা!
বিয়ের প্রস্তাব পাওয়ার সময় মাধুরী দীক্ষিত সম্পর্কে ডা. নেনে আদতে কতটা জানতেন? ফারহার এই সোজা প্রশ্নের জবাবে ডা. নেনে যা জানান, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। তিনি জানান, সেই সময় তিনি হিন্দি ছবি তো দূরস্থান, ঠিকমতো হিন্দিতে কথাও বলতে পারতেন না তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেসে বেড়ে ওঠা নেনের জগৎ জুড়ে তখন স্টিভেন স্পিলবার্গ, জর্জ লুকাস আর 'স্টার ওয়ার্স'। কিন্তু নিয়তি তো অন্য কিছু ঠিক করে রেখেছিল! মাত্র তিন মাসের ডেটিং, একে অপরের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া— আর তারপরেই মাধুরীকে সোজা বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন তিনি। অভিনেত্রীর বর্ণাঢ্য কেরিয়ার বা স্টারডমের ধার ধারেননি তিনি তখন। গোপনীয়তা বজায় রেখেই মার্কিন মুল্লুকের এক কোণে মাধুরীর ভাইয়ের বাড়িতে অত্যন্ত সাদামাটাভাবে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তাঁরা।
বিয়ে তো মিটল, কিন্তু আসল চমক অপেক্ষা করছিল মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড ওয়েডিং রিসেপশনে! মাধুরীর মতো তারকার বিয়েতে বলিউড তারকার মেলা বসাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বরকর্তার অবস্থা কী হয়েছিল? স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ডা. নেনে হাসতে হাসতে বলেন, “আমার অবস্থা হয়েছিল ঠিক ‘প্রম কিং’-এর মতো! শুধু সবার দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে যাচ্ছিলাম। কারওর সঙ্গেই তো আমার পরিচয় ছিল না, চিনিই না। পরে ওয়েডিং অ্যালবাম দেখে চিনতে হয়েছে।”
ফারহা যখন অবাক হয়ে জানতে চান যে তিনি কি শাহরুখ খান বা সলমন খানের মতো তারকাদেরও চিনতেন না? ডা. নেনে একবাক্য স্বীকার করেন— না, কাউকে চিনতেন না! তবে একটা ব্যতিক্রমী নাম ছিল। তিনি শুধু চিনতেন অমিতাভ বচ্চনকে, কারণ ছোটবেলায় তিনি ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’ দেখেছেন। যদিও তিনি জানান, বলিউডের সমস্ত তারকারাই তাঁর প্রতি অত্যন্ত অমায়িক ও উষ্ণ ব্যবহার করেছিলেন।
https://www.youtube.com/watch?v=vZCv49OXTLI
১৯৯৯ সালের ১৭ অক্টোবর যখন এই দুই ভিন্ন পৃথিবীর মানুষ পরস্পরকে বিয়ে করেন, তখন মাধুরী দীক্ষিতের নামের পাশে লেখা 'সুপারস্টার' তকমা। ‘তেজাব’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘হম আপকে হ্যায় কৌন’-এর মতো একের পর এক মেগা হিট উপহার দিয়ে তিনি তখন ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর তারকা।কিন্তু বিয়ের পরেই কেরিয়ারের সেই আকাশচুম্বী সাফল্যকে বিদায় জানিয়ে সোজা আমেরিকায় পাড়ি জমান মাধুরী। স্বামী ও সংসারকে সময় দিতে অভিনয় থেকে নেন লম্বা বিরতি। এরপর ২০০৩ ও ২০০৫ সালে দুই পুত্র সন্তান আরিন ও রায়ানের জন্ম হয়। দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০১১ সালে সপরিবারে ভারতে ফিরে আসেন তাঁরা। আর তারপর থেকেই ধীরেসুস্থে কামব্যাক করে ফের রূপালী পর্দায় নিজের জাদু ছড়াতে শুরু করেন মাধুরী।
মাধুরী ও ডা. নেনের এই রূপকথার প্রেম যেন প্রমাণ করে— ভালবাসার ক্ষেত্রে তারকাখ্যাতি বা ব্যাকগ্রাউন্ড কোনওটাই আসলে বড় নয়, মনের মিল হওয়াই শেষ কথা।
