কালবেলা · সাধারণ
কসবাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ, মহানগর প্রভাতীর যাত্রাবিরতি শুরু
১৫/১০/২০২৬

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, দাবি আর প্রত্যাশার অবসান। অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি শুরু করেছে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর প্রভাতী (৭০৪)। বহু প্রতীক্ষিত এই প্রাপ্তিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন কসবাবাসী। কারও চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক, কারও কণ্ঠে স্বস্তির কথা, আবার কারও মনে নতুন স্বপ্নের হাতছানি। যেন একটি ট্রেনের যাত্রাবিরতিকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছে পুরো জনপদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মহানগর প্রভাতী ট্রেনে কসবা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রাবিরতির উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।
এ উপলক্ষে স্টেশন এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, রেলওয়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সকাল থেকেই স্টেশন এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুল হাতে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানানো, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে পুরো স্টেশন পরিণত হয় আনন্দের মিলনমেলায়।
কসবাবাসীর মুখে স্বস্তির হাসি। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন এ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় অনেক যাত্রীকে সময়, অর্থ ও বাড়তি ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হতো।
মহানগর প্রভাতীর যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় সেই ভোগান্তি কমার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য এটি স্বস্তির খবর।
তাদের কাছে এটি কেবল একটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের আনন্দ, যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা এবং এলাকার উন্নয়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ।
মহানগর প্রভাতীর যাত্রাবিরতিকে ঘিরে রেল স্টেশন প্রাঙ্গণে এক জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কসবা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াছের সভাপতিত্বে এবং কসবা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুশফিকুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাসুদ, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নাজমুল হুদা খন্দকার, জেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন হাজারী, কসবা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. ইকলিল আজম, কসবা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আলী আশরাফ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন, সাবেক সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, কসবা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদুল হক ভূঁইয়া দীপু ও সদস্য সচিব মো. জিয়াউল হুদা শিপনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।
উল্লেখ্য, কসবা রেলওয়ে স্টেশনে আগে থেকেই আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি রয়েছে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও নোয়াখালীগামী যাত্রীরা যাতায়াত করেন।
এবার নতুন করে মহানগর প্রভাতীর যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় কসবাবাসীর রেল যোগাযোগের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হলো। এর ফলে যাত্রীদের যাতায়াতের বিকল্প বাড়বে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনা করাও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗