জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সফর করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বুধবার (২১ অক্টোবর) সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে ফ্রান্সের জন্য অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার আশ্বাস পেয়েছেন তিনি।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব প্রয়োজন অনুযায়ী নভেম্বরের পরও ফ্রান্সে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। এর আগে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের জন্য প্রতি মাসে ৯৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়েছিল দেশটি।
আল-জাজিরা ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গেও ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতা করেছে ফ্রান্স। তিন দেশ থেকে প্রতি মাসে মোট ২ লাখ ৯৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে প্যারিস, যা দেশটির মোট ডিজেল ব্যবহারের ১০ শতাংশের কিছু বেশি।
সমঝোতা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন প্রত্যেকে মাসে প্রায় এক লাখ টন করে ডিজেল সরবরাহ করবে। সৌদি আরবের প্রতিশ্রুত মাসিক ৯৫ হাজার টন যুক্ত হলে মোট সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৯৫ হাজার টনে। তবে সৌদি আরবের অতিরিক্ত সরবরাহের মেয়াদ ও পরিমাণ এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।
সরবরাহ করা ডিজেল ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিসের মাধ্যমে দেশটির বাজারে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন সরবরাহের লক্ষ্য জ্বালানির ঘাটতি মোকাবিলার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দামের ওপর চাপ কমানো।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ইউরোপের জ্বালানি আমদানি, পরিবহন ব্যয় ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফ্রান্স ডিজেলের উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সরবরাহের নিশ্চয়তা অর্জনকে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে দেশটির সরকার। কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার পাশাপাশি নতুন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ম্যাক্রোঁর সফরে জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি ফ্রান্সের জ্বালানি নিরাপত্তায় স্বস্তি আনতে পারে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য জ্বালানির দাম কতটা কমবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ও বিমা ব্যয় এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপর এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে জনঅসন্তোষের মধ্যে ম্যাক্রোঁ সরকারের জন্য জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে এই সমঝোতা একদিকে জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত করার উদ্যোগ, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
The post হরমুজ সংকটে জ্বালানি কূটনীতি, ফ্রান্সকে বাড়তি ডিজেলের আশ্বাস সৌদির appeared first on ভোরের চেতনা.
