বিনোদন ডেস্ক: বয়স মাত্র ৩৪। এটুকুতেই জীবনের ইতি। চলে গেলেন বিখ্য্যাত টিভি সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত অভিনেতা আরজে মিটে। ভ্যারাইটির প্রতিবেদন বলছে, আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
সর্বকালের সেরা সিরিজগুলোর মধ্যে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর নাম উচ্চারিত হয় প্রথমেই। এই সিরিজেরই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিরিজের নাম ভূমিকায় থাকা ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের ভূমিকায় রয়েছেন তিনি। গল্পে তার প্রভাবও বিস্তর।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরজে মিটের প্রতিনিধি বলেন, ‘প্রিয় অভিনেতা, জনহিতৈষী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার কর্মী আরজে মিতের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে মারা গেছেন মিটে। ১২ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০-এর দিকে স্থানীয় পুলিশের কাছে খবর যায়। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে বলেছে, অভিনেতার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। এখনো তদন্ত চলমান।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক কিশোরের ভূমিকায় রয়েছেন আরজে মিটে। বাস্তবেও তিনি এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সেই সুবাদে চরিত্রটি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন তিনি। ব্রায়ান ক্র্যানস্টন ও অ্যারন পল অভিনীত এই সিরিজটি একাধিক এমি পুরস্কার জিতেছে। সিরিজটিতে অভিনয়ের জন্য ২০১৪ সালে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডও পান মিটে।
অভিনয়ের বাইরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন আরজে মিটে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘দ্য মিটে ফাউন্ডেশন’। এখান থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য কাজ করতেন তিনি।
মিটের মৃত্যুর খবর শুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সিরিজটিতে তার বাবার চরিত্রের অভিনেতা ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। তিনি লিখেছেন, এই খবর তাঁকে ‘গভীর হতাশা ও শোকের’ মধ্যে ফেলেছে। ক্র্যানস্টন লেখেন, ‘ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যখন তাকে নেওয়া হয়, তখন তার বয়স মাত্র ১৪ বছর। শুরু থেকেই সে আনন্দ ও উদ্দীপনার সঙ্গে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছিল। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিজটির প্রথম পর্বের শুটিং শুরুর সময় ছেলেটি অভিনয়ে বেশ কাঁচা ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা তাকে একজন দক্ষ অভিনেতা হয়ে উঠতে দেখেছি।’
প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পীদের অধিকারের পক্ষে মিটের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন ক্র্যানস্টন। তিনি জানান, সেরিব্রাল পালসিকে মিটে কখনোই কোনো কিছুর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেননি। ‘তার মধ্যে এত সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি ছিল। আজ সেসব হারিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। তোমাকে মিস করব, বাবা’—লেখেন ক্র্যানস্টন।
সিরিজের আরেক প্রধান অভিনেতা অ্যারন পল শোকবার্তায় লিখেছেন, ‘আরজে, বন্ধু, তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে খুব মিস করব। আর যিনি এই লেখাটি পড়ছেন, তাকে বলছি—জেনে রাখুন, আপনি ভালোবাসার যোগ্য এবং আপনি একা নন। সব সময় কথাটি মনে রাখবেন।’
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট মিসিসিপির জ্যাকসনে জন্ম নেন আরজে মিটে। তার পুরো নাম রয় ফ্রাঙ্ক মিটে তৃতীয়। জন্মের পর অনেকটা সময় তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ ছিল। সে কারণে তার মস্তিষ্কে অনেক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। জন্মের কিছুদিন পর তাকে দত্তক নেয় রয় ফ্রাঙ্ক মিটে ও ডায়না মিটে। কিন্তু তার বয়স যখন মাত্র দুই মাস, তখনই ফ্রাঙ্ক ও ডায়না আলাদা হয়ে যান। তিন বছর বয়সে আরজে মিটে আক্রান্ত হন সেরিব্রাল পালসিতে।
এমনই সংগ্রামে ভরা জীবন ছিল আরজে মিটের। মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। ১৩ বছর বয়সে তার মাও প্যারালাইজড হয়ে যান। পরিবারের দায়িত্ব আসে তার কাঁধে। অসুস্থ মা আর দুই বছরের এক বোনকে নিয়ে শুরু হয় মিটের জীবনযুদ্ধ।
কিশোর বয়সেই লস অ্যাঞ্জেলসে যান মিটে। টুকটাক কিছু সিনেমা-সিরিজে পাসিং শট কিংবা ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। এর ফাঁকে অডিশন দিতে দিতে হঠাৎ সুযোগ পেয়ে যান ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ। এটাই বদলে দেয় তার জীবন। এরপর তাকে দেখা গেছে ‘হানা মন্টানা’, ‘ভেগাস’, ‘সুইসড অ্যাট বার্থ’, ‘রোবোট চিকেন’, ‘দ্য ক্লোজ’, ‘নাউ অ্যাপোক্যালিপ্স’সহ বিভিন্ন সিরিজে। অভিনয় করেছেন ‘হাউজ অব লাস্ট থিংস’, ‘হুজ ড্রাইভিং ডগ’, ‘দ্য রিকল’, ‘দ্য শেয়ার’, ‘রিভারস রান রেড’, ‘দ্য ওকে রুম’সহ বেশ কিছু সিনেমায়।
