কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই তীব্র ভাঙনে সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামের ১৭টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগে গত এক বছরে এই উপজেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
ভাঙনের এই আকস্মিক তাণ্ডবে বসতবাড়ির পাশাপাশি কৃষকদের বিঘার পর বিঘা কাঁচা-পাকা আমন ধান, ভুট্টাখেত এবং শাকসবজির খেত তলিয়ে গেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখেরবাতি চরের ভয়াবহ ভাঙনের মুখে কৃষকদের নিরুপায় হয়ে কাঁচা ধান কাটার ছবি ভাইরাল হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। চর শৌলমারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, তার ওয়ার্ডে ৭টি এবং পার্শ্ববর্তী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খেদাইমারী গ্রামে ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। সর্বস্ব হারানো এসব পরিবারের মধ্যে দেলোয়ার, নজরুল ইসলাম, রুপচান, আয়শা খাতুন, ছোবহান, লালু শেখ, কপিল উদ্দিন, আফছার আলী, হাতেম, কদম আলী, আব্দুল খালেক, মহর উদ্দিন, সিরাজুল, জমসের আলী ও আক্কাস আলীসহ ১৭টি পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে বা অন্যের জমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ছয়-সাত মাস আগে কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও সঠিক তদারকি ও স্থায়ী সিসি ব্লকের ব্যবস্থার অভাবে সেগুলোর অধিকাংশই নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ফলে নদী উন্মুক্ত হয়ে দ্রুত পাড় ভেঙে গ্রাস করছে একের পর এক জনপদ। সর্বস্ব হারানো জমসের আলী আক্ষেপ করে বলেন, বাড়িভিটাসহ ৩ বিঘা জমি নদীতে চলে যাওয়ায় তিনি এখন দিশাহারা; ধারদেনা করে অন্যের জমিতে ঘর তুললেও সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি।
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এইচ এম সাইদুর রহমান জানান, সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর ওয়ার্ডে ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করলেও কেবল জিও ব্যাগ দিয়ে তা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সরকারিভাবে ভাঙনকবলিতদের আর্থিক সহায়তা বন্ধ থাকায় অসহায় গরিব মানুষের পক্ষে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জরুরি কাজের জন্য বর্তমানে পাউবোর কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তারা ইতিবাচকভাবে ভাবছেন বলে জানান তিনি। নদীভাঙনের এই স্থায়ী অভিশাপ থেকে রক্ষা পেতে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জানমাল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
