ভুল চিকিৎসায় আগেই নিভে গেছে এক চোখের আলো। এবার অন্য চোখটির দৃষ্টিশক্তিও চিরতরে হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছিল তার। নিত্যদিনের সংসার চালানোই যেখানে চরম অনিশ্চিত, সেখানে চোখের ব্যয়বহুল উন্নত চিকিৎসা করানো ওই পরিবারের জন্য একেবারেই অসম্ভব। এমন এক হৃদয়বিদারক মুহূর্তে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের এক সরকারি ব্যারাকে বসবাসকারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাসেলের চিকিৎসার জন্য নিজেদের স্বেচ্ছায় দেওয়া ৫ দিনের বেতন থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবালসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাসেলের হাতে এ চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে রাসেলের ডান চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরে তিনি ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচার করান। অস্ত্রোপচারের পর তার বাম চোখেও সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়ায় আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়। একদিকে নিজের চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে স্ত্রী ও তিন সন্তানের ভরণপোষণ সব মিলিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েন রাসেল।
এ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবালের কাছে যান তিনি। রাসেলের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেন ইউএনও। পরে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের বেতন থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে জোগাড় হয় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত রাসেল বলেন, ইউএনও স্যারসহ সরকারি কর্মকর্তারা আমাকে যে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন, এর জন্য আমি তাদের কাছে ঋণী। এই টাকা নিয়ে আগামীকাল ঢাকায় গিয়ে বাম চোখের চিকিৎসা শুরু করব।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, দৃষ্টিহীন এই যুবক যেন চিকিৎসার মাধ্যমে আবার চোখের আলো ফিরে পান, সে লক্ষ্যেই আমাদের এ প্রচেষ্টা। উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তারা নিজেদের বেতন থেকে এই অর্থ দিয়েছেন। এটি আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা।
