ম্যাচ গড়াপেটার দায়ে ২৪ বছরের জন্য নির্বাসিত স্তেফান মিলিচেভিচ।ছবি: সংগৃহীত
Published on
:
2 min read
টেনিসে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে ২৪ বছরের জন্য নির্বাসিত হলেন সার্বিয়ার টেনিস খেলোয়াড় স্তেফান মিলিচেভিচ (Stefan Milicevic)। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক টেনিস ইন্টেগ্রিটি এজেন্সি (ITIA) এই শাস্তির কথা জানিয়েছে। ২৯ বছরের এই টেনিস খেলোয়াড়কে ২০৫০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নির্বাসিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে ৭০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। ম্যাচ গড়াপেটার পাশাপাশি অন্য খেলোয়াড়দেরও এই দুর্নীতির চক্রে সামিল করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ছ’টি ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ
ITIA-র অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ছ’টি ম্যাচ গড়াপেটা করেছিলেন মিলিচেভিচ। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে তিনি নিজেই খেলেছিলেন। আরও ছ’টি ম্যাচ গড়াপেটার চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, একাধিক পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়কে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত একটি চক্রে সামিল করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মূলত নিচু স্তরের প্রতিযোগিতায় খেলতেন মিলিচেভিচ। ২০১৪ সালে সিঙ্গলসে তাঁর বিশ্ব ক্রমতালিকায় সর্বোচ্চ স্থান ছিল ১৩৩৮। ITIA জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অন্য খেলোয়াড়রাও ম্যাচ গড়াপেটা করেছিলেন। তবে কোন কোন ম্যাচে গড়াপেটা হয়েছিল বা আর কোন খেলোয়াড়েরা এই ঘটনায় জড়িত, তা প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
তদন্তে সহযোগিতা না করায় কড়া শাস্তি
ITIA জানিয়েছে, তদন্তের কাজে মিলিচেভিচ কোনও সহযোগিতা করেননি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সাত বার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তদন্তের ফলাফল নিয়েও নিজের বক্তব্য জানাননি তিনি। তদন্তে অসহযোগিতার বিষয়টিও তাঁর শাস্তি এত কঠোর হওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এই নির্বাসনের ফলে মিলিচেভিচ এটিপি, ডব্লিউটিএ, গ্র্যান্ড স্ল্যাম, ওয়ার্ল্ড টেনিস কিংবা কোনও দেশের টেনিস সংস্থার আয়োজিত বা অনুমোদিত প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবেন না। একই সঙ্গে ওই সব প্রতিযোগিতায় কোচিং করা বা উপস্থিত থাকার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। অর্থাৎ, ৫৩ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত টেনিসের সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত থাকতে পারবেন না তিনি।
২০ বছরের নির্বাসন ফোলিয়টেরও
ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে এর আগেও বড় শাস্তির ঘটনা ঘটেছে টেনিসে। গত ডিসেম্বরে ফ্রান্সের খেলোয়াড় কুয়েন্তাঁ ফোলিয়টকে (Quentin Folliot) ২০ বছরের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছিল। তদন্তে তাঁকে ম্যাচ গড়াপেটার একটি চক্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২০২২ সালে সিঙ্গলসে বিশ্ব ক্রমতালিকায় ৪৮৮ নম্বরে উঠেছিলেন ফোলিয়ট। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে খেলা ১১টি ম্যাচকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। মোট ৩০টি অভিযোগের মধ্যে ২৭টি বহাল রাখে শুনানির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ। ওই অভিযোগগুলির মধ্যে ১০টি ম্যাচের সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার অভিযোগও ছিল।