অনুশীলনে ইস্টবেঙ্গলEi Samay
Published on
:
2 min read
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে ইরাকের শক্তিশালী দল আল শোর্তার মুখোমুখি হতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। ISL শিল্ড ফাইনালে ডার্বি হারের পর এই ম্যাচে নামছে ইস্টবেঙ্গল। ডার্বিতে হার ও অল্প সময়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও ঘরের মাঠের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে মরিয়া লাল-হলুদ ব্রিগেড। ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে এসে লড়াইয়ের কথা বললেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ় হাবাস এবং জয় গুপ্তা।
‘কোনও অজুহাত নয়, লক্ষ্য তিন পয়েন্ট’
গত ৮ অক্টোবর শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানের কাছে হারতে হয়েছে। তার চার দিনের মাথায় নামতে হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে। যদিও হাবাস ACL-এর প্রস্তুতির জন্য কলকাতা লিগের সময়টাকে কাজে লাগিয়েছিলেন। জুনিয়র দলকে কলকাতা লিগে খেলিয়ে হাবাস দলের সিনিয়র প্লেয়ারদের নিয়ে প্রস্তুতি সেরেছিলেন ACL-এর জন্য। তবে ডার্বির পর প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া নিয়ে কোনও আক্ষেপ করতে চান না হাবাস। স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘খুব কম সময় পেয়েছি প্রস্তুতির জন্য, তবে কোনও অজুহাত দিতে চাই না। আল শোর্তা অবশ্যই এই গ্রুপের অন্যতম সেরা এবং ফেভারিট দল। তবে আমরা কলকাতায় খেলছি, এবং যুবভারতীর এই পরিবেশ আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আমরা শুরু থেকেই জয়ের জন্য ঝাঁপাব।’
দলে দুই নতুন বিদেশির মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে হাবাস স্পষ্ট করেন যে, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কোনও খেলোয়াড়কে পুরোপুরি চেনা যায় না, তবে দলের প্রত্যেকেই নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।
সাত বিদেশি বনাম এগারো জনের লড়াই
আল শোর্তা দলে সাতজন বিদেশি থাকার সুবিধাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ লাল-হলুদ বস। হাবাসের মতে, ‘কাগজে-কলমে ক’জন বিদেশি রয়েছে তা দিয়ে ফুটবল হয় না। মাঠে নামলে লড়াইটা হয় ১১ জনের বিরুদ্ধে ১১ জনের। আমাদের ভারতীয় ফুটবলাররাও যথেষ্ট দক্ষ এবং বিদেশিদের সমকক্ষ। মাঠে কোচেদের মধ্যে লড়াই হয় না, পারফর্ম করতে হয় খেলোয়াড়দেরই।’ পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনও ফুটবলারের ভুলত্রুটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করে ড্রেসিংরুমের বৈঠকেই সমস্যা মেটানোর পক্ষে মত দেন তিনি।
জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা আমাকে পরিণত করেছে: জয় গুপ্তা
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বনাম ব্রাজ়িল, উরুগুয়ে কিংবা পানামার মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা যে তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, তা অকপটে স্বীকার করেন জয় গুপ্তা। বলেন, ‘বড় ম্যাচগুলোতে স্নায়ুর চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুরো নব্বই মিনিট আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার পাঠ আমি জাতীয় দল থেকেই পেয়েছি। অতিরিক্ত ম্যাচের ক্লান্তি নিয়ে আমি একেবারেই ভাবছি না। একজন ফুটবলারের কাছে আরও বেশি ম্যাচ খেলা মানেই আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন।’
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিজের আবেগের স্মৃতি টেনে জয় যোগ করেন, ‘গত বছর এই দুর্গাপুজোর সময়েই আমি ইস্টবেঙ্গলে সই করেছিলাম এবং এই মাঠেই আমার অভিষেক গোলটি পেয়েছিলাম। কেউ কেউ হয়তো মনে করছেন আল শোর্তা এই গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল, তবে আমি তা মানতে রাজি নই। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আমাদের দলের রয়েছে। মা দুর্গার আশীর্বাদে ঘরের মাঠে আমরা দারুণভাবে কামব্যাক করব এবং পুরো তিন পয়েন্ট তুলে নেব।’
