পশ্চিমবঙ্গের ফুটবল নিয়ামক সংস্থা আইএফএ-তে অবৈতনিক সচিব পদের অস্তিত্ব থাকছে না। নতুন সংবিধান কার্যকর হলে উঠে যাবে সাম্মানিক সচিবের পদ। সে ক্ষেত্রে সংস্থার সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হবেন সভাপতি।
দেশের কেন্দ্রীয় বা রাজ্য— অধিকাংশ ক্রীড়া সংস্থাতেই মূল ক্ষমতা থাকে সচিবের হাতে। পদ অনুযায়ী সচিবের উপরে সভাপতি থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেই পদ আলঙ্কারিক। সংস্থার যাবতীয় কাজকর্ম বা সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রিত হয় সচিবের মাধ্যমেই।
কিন্তু আইএফএ-সহ দেশের অন্যান্য রাজ্যের ফুটবল নিয়ামক সংস্থাতে এ বার লোপ পাচ্ছে অবৈতনিক সচিব পদ। তার বদলে থাকবেন বেতনভুক সচিব। ফলে সচিব পদে কোনও নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে সভাপতি, তিন জন সহ-সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ এবং সাধারণ কমিটি সদস্যদের পদে। সব মিলিয়ে মোট ১৫টি পদে নির্বাচন হবে। তাঁদের হাতেই থাকবে রাজ্য ফুটবল সংস্থা চালানোর দায়িত্ব। এত দিন কমিটিতে ছিলেন সভাপতি, চেয়ারম্যান, তিন জন সহ-সভাপতি, সচিব, তিন জন সহ-সচিব এবং কোষাধ্যক্ষ।
শনিবার আইএফএর বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম)। সেখানেই কার্যকর হওয়ার কথা নতুন সংবিধানের। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রীড়ানীতি মেনে গঠিত এই সংবিধান কার্যকর হলেই সংস্থা থেকে উঠে যাবে অবৈতনিক সচিবের পদ।
সচিবই যেখানে সব, সেখানে এই পদ উঠে গেলে কী করে সংস্থা চলবে? আইএফএর বর্তমান সচিব অনির্বাণ দত্ত বললেন, ‘‘বেতনভুক কোনও সচিব তো থাকবেন। বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায় যেরকম সিইও থাকেন, আইএফএতেও বেতনভুক সচিব থাকবেন। তবে সেক্ষেত্রে যোগ্য এবং উপযুক্ত কাউকে পেতে হলে, হয়তো তাঁকে মোটা মাসিক পারিশ্রমিক দিতে হবে।’’
শনিবারের এসজিএমএ গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। সে দিনই আইএফএর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার কথা। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে আইএফএ। নতুন সংবিধান অনুযায়ী, এ বার ভোট দিতে পারবে আইএফএ স্বীকৃত ৩০৯টি ক্লাবই। এ ছাড়াও ভোট দেবেন ফুটবলার, রেফারি ও কোচেদের প্রতিনিধিরা। এত দিন ভোট দিতে পারতেন শুধু গভর্নিং বডির সদস্যেরাই।
