গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও বক্তব্য ধারণ এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মধ্য-পানপট্টি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মুহা. মাকছুদুর রহমান। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে গলাচিপা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মাদ্রাসা সুপার। এ সময় তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা টাকা নেওয়া ও আত্মসাতের ভিডিও বার্তাটি অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে মাদ্রাসা সুপার মুহা. মাকছুদুর রহমান বলেন, ২০২১ সালে তিনি ওই মাদ্রাসায় সুপার পদে যোগদান করেন। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল অর্জিত হয়েছে। তিনি স্বচ্ছতা ও সুনামের সাথে মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন বলেও দাবি করেন।
আরও পড়ুন
এমন কোনো প্রতীক নেই, যেটায় ভোট দিলে জান্নাতে যাবে!

তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ক্যামেরার সামনে জোরপূর্বক একটি বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই বক্তব্যে তাকে দিয়ে মাসুদ নামের একজনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা এবং মাছুম নামের আরেকজনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার কথা বলানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে তাদের কাছ থেকে কিংবা অন্য কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন মাদ্রাসা সুপার। একই সাথে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাকছুদুর রহমান বলেন, “মাদ্রাসার সব সিদ্ধান্ত পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সরকারি নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়। আমার এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। আমি কোনো অর্থ তছরুপ বা আত্মসাৎ করিনি। ব্যাংকের সব হিসাব সঠিক রয়েছে। আমাকে জিম্মি করে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ক্যামেরার সামনে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি চক্র তাকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, যার ফলে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়; এটি সুপারের একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর প্রতিবাদ জানান তিনি। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সুষ্ঠু তদন্ত হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
