এআই, সাইবার নিরাপত্তা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং, এনএলপি, কম্পিউটার ভিশনসহ কম্পিউটিংয়ের বিভিন্ন উদীয়মান প্রযুক্তি, গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে দুই দিনব্যাপী আইইইই তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অন কম্পিউটিং, অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড সিস্টেম সম্মেলন ১০ অক্টোবর শনিবার শেষ হয়েছে। আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ আয়োজনে গত ৯ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলন বাংলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার মাধ্যমে। সকালে তৃতীয় এবং পরবর্তী সময়ে চতুর্থ কি-নোট সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাম্প্রতিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘এআই গ্রহণের পরবর্তী ধাপ: উচ্চশিক্ষায় পাঠদান, মূল্যায়ন ও গবেষণার নতুন সংজ্ঞায়ন’-শীর্ষক প্যানেল আলোচনা। এতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের ড. এম জুলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম সোহেল রহমান, বিডিরেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌরিত এবং পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। আলোচনা সঞ্চালনা করেন সম্মেলনের অর্গানাইজিং চেয়ার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুন-অর-রশীদ।
প্যানেল আলোচনায় উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতি, মূল্যায়নব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা, গবেষণার সততা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নত কম্পিউটিং অবকাঠামো, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, আইইইই বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, গবেষক ও অংশগ্রহণকারীরা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, আধুনিক কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণাকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কার প্রদান। গবেষণার মান ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনটি গবেষণাপত্রকে সেরা গবেষণাপত্র পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রথম সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কার অর্জন করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে পরিচালিত গ্রাফ নিউরাল নেটওয়ার্কবিষয়ক গবেষণাপত্র। দ্বিতীয় সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কার অর্জন করে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার প্রবাদ-প্রবচনবিষয়ক গবেষণাপত্র। তৃতীয় সেরা গবেষণাপত্রের পুরস্কার অর্জন করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) স্বল্পব্যয়ী পানির প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণাপত্র। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেরা গবেষণাপত্রের জন্য যথাক্রমে ৩৫ হাজার, ২৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। মোট ৮০ হাজার টাকার এই পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মেলনে উপস্থাপিত উৎকৃষ্ট গবেষণাকর্মকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এবারের সম্মেলনে মোট ৬১৬টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে ২১২টি গবেষণাপত্র গৃহীত হয়। গবেষণাপত্র গ্রহণের হার ছিল প্রায় ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সম্মেলনে ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, ভিজ্যুয়াল কম্পিউটিং, ডেটা বিশ্লেষণ, সাইবার-ফিজিক্যাল ও এজ সিস্টেম, ডিস্ট্রিবিউটেড সিস্টেম, নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংসহ কম্পিউটিংয়ের বিভিন্ন অগ্রসর ক্ষেত্রে গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।
দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। মূল অধিবেশন , কারিগরি অধিবেশন , শিল্প বিষয়ক আলোচনা এবং পূর্ণাঙ্গ আলোচনার মাধ্যমে গবেষণার নতুন ধারণা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
