‘চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনও মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা রেখে যায়’ এই আবেগঘন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁয় অনুুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী এক চিঠি উৎসব। আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া চিঠির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে দিতে নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। এতে কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে উৎসবকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বর্তমান যুগের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা খুদেবার্তার যুগে কাগজের পাতায় কলম ছুঁইয়ে মনের কথা প্রকাশের এই সুযোগ লুফে নেয় তরুণ-তরুণীরা। ডিজিটাল এই সময়ে চিঠির খাম আর ডাক টিকিটের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই ছিল একেবারে নতুন ও রোমাঞ্চকর।
দিনব্যাপী এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে বসেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, ফেলে আসা শৈশবের বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের উদ্দেশে আবেগঘন সব চিঠি লেখেন। লেখার পর নিজ হাতে সেগুলো কলেজ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী লাল ডাকবাক্সে জমা দেয়।
সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস। এসময় নওগাঁ উপ ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া চিঠিগুলো উৎসব শেষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে চিঠি লেখার এই সুপ্ত অভ্যাসকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে এবং ডাক বিভাগের সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের সেবাসমূহ ঢেলে সাজানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্পিড পোস্ট সার্ভিসের মাধ্যমে মালামাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং এই সেবা গ্রহণ করে মানুষ ডাকসেবা গ্রহণে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছে।
