আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দিয়েছেন তিলক ভার্মা। ম্যাচের পর নিজের পারফরম্যান্সে গর্ব প্রকাশ করার পাশাপাশি ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর ও ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে চার উইকেটে জয় তুলে নেয় ভারত। নিউজিল্যান্ডের ১৮০ রান তাড়া করতে নেমে একসময়ে ৭০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপে পড়ে যায় ভারতীয় দল। সেখান থেকে নীতীশ কুমার রেড্ডিকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন তিলক। মাত্র ৩০ বলে দু’জনের ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এক বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে ভারত।
ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হওয়ার পর তিলক জানান, ম্যাচের আগে কোচ গৌতম গম্ভীর ও ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক তাঁকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন। তাঁদের বিশ্বাসই রান তাড়া করার সময় তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিলকের কথায়, “আমি শুধু শেষ পর্যন্ত ব্যাট করার কথা ভাবছিলাম। ম্যাচের আগে গৌতম স্যার ও সীতাংশু কোটাক স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছিল। ওঁরা বলেছিলেন, গোটা ভারত আমার উপর বিশ্বাস রাখে। আমি যদি শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে পারি, তা হলে দলকে জেতাতে পারব। ওঁদের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।”
ভারতের রান তাড়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। মাত্র ২১ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। তবে চাপের মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে ব্যাট করেন তিলক। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। ১৩ বলে অপরাজিত ২৬ রান করে জয়ের পথ সহজ করেন নীতীশ।
এর আগে নামন ধীরের সঙ্গে জুটি বেঁধে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিলক। ১৭ বলে ৩১ রান করে ১৫তম ওভারে স্যান্টনারের বলে আউট হন নমন ধীর। তিলকের মতে, সেই জুটি আরও কিছুক্ষণ স্থায়ী হলে ম্যাচ আরও আগেই শেষ করতে পারত ভারত।
তিলক বলেন, “আমি নমনকে বলেছিলাম, আমরা শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকতে পারি। আগের ম্যাচের তুলনায় উইকেট অনেক ধীর ছিল। তাই স্পিনারদের বিরুদ্ধে উইকেটের মধ্যে দ্রুত দৌড়ে রান নেওয়া জরুরি ছিল। আমরা সেই পরিকল্পনা মেনেই খেলেছি। নমন আউট না হলে হয়তো ১৮তম ওভারেই ম্যাচ শেষ হয়ে যেত।”
স্পিনারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিলক জানান, অযথা ঝুঁকি না নিয়ে ফাঁকা জায়গায় বল পাঠানো এবং দ্রুত রান নেওয়ার উপর জোর দিয়েছিলেন তাঁরা। অন্যদিকে, পেসাররা বল করতে এলে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুযোগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
এদিকে, প্রথমে ব্যাট করে গ্লেন ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবসের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে পাঁচ উইকেটে ১৮০ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। ফিলিপস ৪৩ বলে ৭০ এবং জ্যাকবস ৪৬ বলে ৫৮ রান করেন। চতুর্থ উইকেটে দু’জনের ১১৬ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করায়। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং দু’টি উইকেট নেন।
তবে শেষ পর্যন্ত তিলক ও নীতীশের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
