আজকাল ওয়েবডেস্ক: ড্রাইভিং লাইসেন্সে ঠিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি শীঘ্রই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়ে যেতে পারে। এছাড়া, যদি আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তর (আরটিও) ৩০ দিনের মধ্যে আপনার আবেদনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না নেয় (অর্থাৎ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান- কোনওটিই না করে), তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার ‘সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকলস রুলস, ১৯৮৯’-এর খসড়া সংশোধনীতে এই প্রস্তাবগুলো রেখেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত পরিষেবাগুলোকে আরও সহজ করা এবং আবেদনের প্রক্রিয়াকরণের সময় কমিয়ে আনা।
এই প্রস্তাবগুলোর আওতায় লাইসেন্সধারীর নাম বা অন্যান্য নথিবদ্ধ তথ্য পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে ২০০ টাকা ফি নেওয়া হয়, তা-ও তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আরটিও যদি ৩০ দিনের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তবে কী হবে?
প্রস্তাবিত ‘রুল ১৬এ’ অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যে পরিবর্তনের জন্য জমা দেওয়া আবেদনগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের হাতে ১৫ দিন সময় থাকবে।
যদি কোনও আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই লিখিতভাবে তার কারণ জানাতে হবে এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে আবেদনকারীকে সেই সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করতে হবে। তবে, যারা ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করছেন, তাদের জন্য একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
যদি লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান- কোনওটিই না করে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে ধরে নেওয়া হবে। এই স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের বিধানটি কেবল ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের অন্যান্য তথ্য পরিবর্তনের সব আবেদনের ক্ষেত্রে নয়।
আরটিও-এর কোন কোন পরিষেবা বিনামূল্যে হতে পারে?
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম বা অন্যান্য নথিবদ্ধ তথ্য পরিবর্তনের জন্য কোনও ফি দিতে হবে না। ঠিকানা পরিবর্তন, মোবাইল নম্বর আপডেট করা বা ইমেইল আইডি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কোনও ফি লাগবে না।
খসড়া সংশোধনীতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে, ‘রুল ৩২’-এর অধীনে অনলাইন আধার অথেন্টিকেশনের মাধ্যমে নেওয়া পরিষেবাগুলোর জন্য কোনও ফি নেওয়া হবে না।
যানবাহনের মালিকরাও এর ফলে স্বস্তি পেতে পারেন
সরকার যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নথিতে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য যে ফি নেওয়া হয়, তা বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে।
এছাড়া, ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ জমা দিতে দেরি হলে যে অতিরিক্ত মাশুল বা চার্জ দিতে হয়, তাও তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ জমা দিতে দেরি হলে মোটরসাইকেলের জন্য প্রতি মাস বা আংশিক মাসের জন্য ৩০০ টাকা এবং অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। এই মাশুলগুলো তুলে নেওয়া হবে।
নতুন ব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করবে?
প্রস্তাবিত নিয়মাবলীতে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন, ডুপ্লিকেট লাইসেন্স ইস্যু করা, নতুন যানবাহনের শ্রেণি যুক্ত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যে সংশোধন আনার মতো পরিষেবাগুলোর জন্য একটি নতুন ‘ফর্ম ২এ’ প্রবর্তন করা হয়েছে।
লাইসেন্সের তথ্যে পরিবর্তন আনার জন্য আবেদনপত্রগুলো প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
আবেদনকারীরা ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিত অন্য কোনও পদ্ধতির মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় যাচাই করতে পারবেন।
‘সারথি’ পোর্টালে আগে থেকেই থাকা তথ্য (যেমন বিদ্যমান লাইসেন্সের বিবর) স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা যাবে, যার ফলে একই তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
নতুন নিয়মগুলো কবে কার্যকর হবে?
এই পরিবর্তনগুলো এখনA কেবল প্রস্তাব আকারে রয়েছে এবং কার্যকর হয়নি। গেজেট বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি জনসাধারণের জন্য উপলব্ধ হওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক এ বিষয়ে আপত্তি ও পরামর্শ আহ্বান করেছে।
সংশোধনীগুলো চূড়ান্ত করার আগে সরকার প্রাপ্ত মতামতগুলো বিবেচনা করবে।
