Published on
:
1 min read
এই সময়, মেদিনীপুর: মাঝি পারগানা ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামস্তরে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হলো দাঁতনে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের মাঝি বাবা ও পারগানা বাবাদের নেতৃত্বে আয়োজিত সচেতনতামূলক শিবিরে টেকসই উন্নয়ন এবং সামাজিক সংস্কারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। শিবিরে বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৩৭৩ জন উপস্থিত ছিলেন।
শিবিরের মূল বক্তা ছিলেন শালবনি গভর্নমেন্ট জেনারেল ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমপাকুমার হেমব্রম জাতিসংঘের নির্ধারিত টেকসই উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। ভারত সরকারের পঞ্চায়েতিরাজ বিভাগের নির্ধারিত ন'টি থিমের সঙ্গে গ্রামোন্নয়নের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেন। দারিদ্রমুক্ত, উন্নত, সুস্থ, শিক্ষাবান্ধব, পর্যাপ্ত জলসম্পন্ন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ গ্রাম, স্বয়ংসম্পূর্ণ পরিকাঠামো, সামাজিক ন্যায় ও সুরক্ষা, সুশাসন এবং নারী-বান্ধব গ্রাম গড়ে তোলার উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এই প্রাচীন সামাজিক ব্যবস্থার সহযোগিতায় উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে।’ ডক্টর হেমব্রম বলেন, ‘সরকার পরিচালিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত হলেও মাঝি পারগানা ব্যবস্থার শিকড় রয়েছে গ্রামস্তরে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এই প্রাচীন সামাজিক ব্যবস্থার সহযোগিতা পেলে উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ আরও সহজ হবে।
গ্রামের মাঝি বাবা, পারানিক বাবা, গডে়ত বাবা, জগ মাঝি বাবা ও নায়কে বাবাদের ভূমিকা কীভাবে সমাজের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়। খড়গপুর তল্লাটের পারগানা বাবা দশরথ মুর্মু বাল্যবিবাহ, নেশা ও ডাইনি প্রথার মতো সামাজিক কুপ্রথা দূর করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন দাঁতন মুলুকের পারগানা বাবা মকর মুর্মু, জগ পারগানা বাবা গোপাল কিস্কু-সহ চুনারাম হেমব্রম, শিবু হেমব্রম, ফাগু হাঁসদা ও শান্তনু মুর্মু।
