সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার জোরখলার গোদারাঘাটে দীর্ঘদিনের যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু।
গত বছরের মতো এবারও ঘাটটি উন্মুক্ত করে নিজের অর্থায়নে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি। এতে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার যাতায়াতকারী মানুষ বিনা ভাড়ায় ঘাট পারাপারের সুযোগ পাচ্ছেন। আগে যেখানে মোটরসাইকেল পারাপারে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হতো, সেখানে এখন বিনা খরচে পার হতে পেরে স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর উপজেলা থেকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলাগামী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল জোরখলার গোদারাঘাট। দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ঘাটটি ইজারা দেওয়া হতো। ইজারাদাররা মোটরসাইকেল পারাপারে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করতেন। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও সিএনজিচালক, কর্মজীবী মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের বাড়তি খরচের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হতো।
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ঘাটটি উন্মুক্ত করে নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান মিনু। তার এ উদ্যোগে দুই জেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। বিশেষ করে নিয়মিত যাতায়াতকারী নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বাড়তি ভাড়ার চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘নামমাত্র রাজস্বের বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদ ঘাটটি ইজারা দিত। কিন্তু এর কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ীরা ও দূরদূরান্তের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো। তাদের কষ্ট লাঘব করতেই আমার নিজ অর্থায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের পারাপার সহজ করতে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দিয়েছি। এটি মেরামত ও দেখভালের জন্য একজন লোকও নিয়োগ দেওয়া হবে।’
স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক দেবল সরকার বলেন, ‘আগে ঘাট পার হতে ৩০ টাকা দিতে হতো। এখন বিনা খরচে পার হতে পারছি। মিনুর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
কলমাকান্দা উপজেলার ব্যবসায়ী মৃদুল দেবনাথ বলেন, ‘আগে এই রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়া-আসা করতে ৬০ টাকা খরচ হতো। মালামাল নিয়ে পারাপারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত লাগত। এখন বিনা ভাড়ায় পারাপারের সুযোগ হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। দুই জেলার প্রতিদিন ১৫-২০ হাজার মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল করেন।’
স্থানীয় শিক্ষক সাগর সরকার বলেন, ‘ঘাটটি উন্মুক্ত করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর অনেক উপকার হয়েছে। আগে অনেক শিক্ষার্থী ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়ত। এখন তারা সহজে যাতায়াত করতে পারছে।’
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কেউ এমন উদ্যোগ নিলে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে ঘাট ও সেতুসংক্রান্ত কাজগুলো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা প্রয়োজন। প্রশাসন সব সময় স্থানীয় মানুষের কল্যাণে কাজ করছে।’
