চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার না হলেও শেষ পর্যন্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। চাঁদাবাজির একটি মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ওয়াকিল। নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ওয়াকিলের। দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছিল পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ অক্টোবর রাতে বগাকে গ্রেপ্তার করতে নগর ভবনে অভিযান চালায় খুলশী থানা-পুলিশ। অভিযান চলাকালে মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে মেয়রের হস্তক্ষেপে অভিযান শেষ না করেই নগর ভবন থেকে ফিরে যায় পুলিশ। এ সময় বগা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরদিন বগাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন মেয়র। খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আবদুর রহিমেরও সমালোচনা করেন তিনি। বগাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন মেয়র।
গত ৭ অক্টোবর আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়। ৮ অক্টোবর তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে পদায়ন করে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।পরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এছাড়াও পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় বগাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এই মামলাতেই রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ওয়াকিল। আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে খুলশী এলাকায় অভিযান চালানোর সময় বগার অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করে পুলিশের ওপর হামলা করেন বলে পুলিশের দাবি। ওই ঘটনায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলাতেও বগাকে প্রধান আসামি করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর বগার বাবা মো. জাবেদ খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আবদুর রহিমসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলাটি করা হয়।
এদিকে খুলশী থানা এলাকায় কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের তৎপরতা আলোচনায় আসে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় হৃদয় নামের এক কিশোর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। এ ঘটনায় আট কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জেরে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘাত থেকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত হৃদয় ফাইভ স্টার গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। গ্রেপ্তার আটজন সেভেন স্টার গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, বগা ও রকিবুল ইসলাম ওরফে পিচ্চি সেভেন স্টার গ্যাং পরিচালনা করেন। অন্যদিকে বিজয়, কামরান ও শান্তর নেতৃত্বে ফাইভ স্টার গ্যাং পরিচালিত হয় বলে জানায় পুলিশ।
