হাইতির রাজধানীর বাইরে গত রবিবার অতর্কিত হামলার শিকার হওয়া চার সালভাদরীয় সেনার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে যে খবর ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ প্রকাশ করেছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে। তিনি জানিয়েছেন, শনিবার সালভাদরীয় বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা চারটি মৃতদেহ ওই চার সেনার নয়।
‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এ মৃতদেহগুলো পাওয়ার খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে বুকেলে লেখেন, “এরা আমাদের লোক নয়।”
রবিবার পোর্ট-অ-প্রিন্সের উপকণ্ঠে একটি বাজার থেকে ঘাঁটিতে ফেরার পথে চারজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন; এর আগে তারা হামলার শিকার একটি জ্বলন্ত সাঁজোয়া যান থেকে লাফিয়ে নেমেছিলেন।
বুকেলে জানিয়েছেন, যে চারটি মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি শিশু, সালভাদোরানদের তুলনায় অনেক লম্বা একজন পুরুষ এবং অন্য একটি দেশের একজন সৈনিক রয়েছেন। তিনি চাদের এক সৈনিকের পরিচয়পত্রের ছবিও প্রকাশ করেছেন।
এই অতর্কিত হামলাটি ছিল ‘গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স’-এর ওপর প্রথম বড় ধরনের আক্রমণ। এটি জাতিসংঘের অনুমোদিত একটি বহুজাতিক মিশন, যা এ বছর হাইতিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মিশনটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এই সপ্তাহের শুরুর দিকে বুকেলে জানিয়েছিলেন যে, চার ব্যক্তিকে গ্যাং সদস্যরা আটকে রেখেছে এবং তাদের অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য এল সালভাদর একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। পরবর্তীতে, তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে এল সালভাদরের আরও সৈন্য মোতায়েন করা হয়।
এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এই অতর্কিত হামলার সঙ্গে ওই এলাকায় সক্রিয় বিভিন্ন গ্যাংয়ের যোগসূত্র থাকার কথা জানিয়েছে; যার মধ্যে ‘চেন মেকান’ (Chen Mechan) এবং ‘৪০০ মাওজো’ (400 Mawozo)-এর মতো শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও রয়েছে।
জিএসএফ (GSF)-এর কার্যক্রম শুরুর এক বছর পার হলেও, বর্তমানে সেখানে প্রায় ২,০০০ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যা অনুমোদিত ৫,৫০০ সৈন্যের সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। এর আগে কেনিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত নিরাপত্তা প্রচেষ্টাও অর্থ, সরঞ্জাম ও জনবলের তীব্র সংকটের কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।
২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইস হত্যাকাণ্ডের পর হাইতিতে গ্যাংগুলোর দৌরাত্ম্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা পোর্ট-অ-প্রিন্সের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে এবং এর ফলে ১৪ থেকে ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
তথ্যসুত্র : রয়টার্স
