পুজোর সময় অনির্দিষ্টকালের জন্য হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেল। পুজোয় বোনাস ও বকেয়া ২ মাসের বেতন না পেয়ে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের কর্মীরা বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিলেন। এদিন দুপুর ২ টো থেকে হাওড়া-কলকাতা সহ ১৬টি রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ফলে পুজোর কয়েকদিন গঙ্গায় লঞ্চ না চললে চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে পারেন যাত্রীরা। বিশেষত যাঁরা লঞ্চে করে হাওড়া থেকে কলকাতা কিংবা কলকাতা থেকে হাওড়া ঠাকুর দেখতে যাবেন তাঁরা চূড়ান্ত নাকাল হতে পারেন।
যেমন হাওড়া কলকাতা রুটে হাওড়া-চাঁদপাল কিংবা রামকৃষ্ণপুর-চাঁদপাল রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাওড়া থেকে আর্মেনিয়াম, আহিড়িটোলা, শোভাবাজার, বাগবাজার রুটেও লঞ্চ পরিষেবা এদিন বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নাজিরগঞ্জ-মেটিয়াব্রুজ, গাদিয়াড়া-গেঁয়োখালি, নূরপুর, বাউড়িয়া রুটেও লঞ্চ চালানো বন্ধ করে দেন কর্মীরা।
নাজিরগঞ্জ ফেরিঘাটের এক কর্মী চন্দন ভৌমিক বলেন, ‘‘এ বছর আমাদের পুজোর বোনাস দেয়নি কর্তৃপক্ষ। বার বার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও আমরা বোনাস পায়নি। তাই পুজোর সময় আমরা ফেরি সার্ভিস বন্ধ করতে বাধ্য হলাম।’’ কর্মীরা অভিযোগ করেন, হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের ২৫০ জন স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মীকে প্রত্যেকবছর বোনাস দেওয়া হলেও এ বছর দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, কর্মীদের ৫ বছর ধরে ২ মাসের বেতন বকেয়া রেখে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই প্রসঙ্গে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রশাসক নিখাত পরভেজ জানান, ‘‘আমরা কর্মীদের বক্তব্য শুনেছি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।’’
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ১৬টি রুটে প্রায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি লঞ্চ চলে। নিত্যদিন এই রুটগুলিতে প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। ফলে পুজোর সময় এই রুটগুলি বন্ধ থাকলে যাত্রীরা সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
