আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি এবং তথ্য জমা থাকে ডিজিটাল দুনিয়ায়। Gmail-এ থাকা ইমেল, Google Photos-এ বছরের পর বছর ধরে জমিয়ে রাখা ছবি, WhatsApp-এর ব্যক্তিগত কথোপকথন কিংবা Facebook ও Instagram-এর অ্যাকাউন্ট—সবই আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর এই ডিজিটাল অ্যাকাউন্টগুলির কী হবে? পরিবারের সদস্যরা কি সহজেই সেগুলিতে প্রবেশ করতে পারবেন? বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
ভারতে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন থাকলেও ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের উত্তরাধিকার নিয়ে এখনও স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো নেই। Indian Succession Act, 1925 মূলত উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, Information Technology Act, 2000 এবং Digital Personal Data Protection Act, 2023-এ মৃত ব্যক্তির ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের উত্তরাধিকার নিয়ে সুস্পষ্ট অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সংস্থার নিয়মের উপর নির্ভর করতে হয় পরিবারকে।
Google, Facebook ও Apple-এ কী নিয়ম?
Google-এর রয়েছে ‘Inactive Account Manager’ পরিষেবা। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজের অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলে সর্বোচ্চ ১০ জন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। Gmail, Google Drive ও Google Photos-এর মতো পরিষেবার তথ্য ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। আগে থেকে এই সুবিধা চালু না থাকলে মৃত্যুর পর পরিবারের আবেদন মঞ্জুর হবেই, এমন নিশ্চয়তা নেই।
Facebook-এ ব্যবহারকারীরা ‘Legacy Contact’ নির্বাচন করতে পারেন। মৃত্যুর পর সেই ব্যক্তি অ্যাকাউন্টের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের কিছু কাজ করতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত মেসেজ পড়ার অনুমতি পাবেন না। Instagram-এ অ্যাকাউন্ট স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করা বা মুছে ফেলার আবেদন করা যায়। WhatsApp-এর ক্ষেত্রে ফোন এবং তার পাসকোডের নাগাল থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
Apple-এর ‘Digital Legacy’ পরিষেবায় সর্বোচ্চ পাঁচজনকে Legacy Contact হিসেবে মনোনীত করা যায়। তাঁদের জন্য অ্যাক্সেস কী তৈরি হয়। মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় নথি ও সেই কী দিয়ে আবেদন করে নির্দিষ্ট iCloud তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে সব ধরনের তথ্য বা ডিভাইসে প্রবেশের নিশ্চয়তা নেই।
পাসওয়ার্ড ম্যানেজার কতটা কার্যকর?
Bitwarden, 1Password-এর মতো পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের লগইন তথ্য নিরাপদে রাখা যায়। কিছু পরিষেবায় জরুরি অবস্থায় বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে অ্যাক্সেস দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মাস্টার পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করা জরুরি।
ফোনের স্ক্রিন লকও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্য হলেও অন্যের ফোনের পাসকোড না জানা থাকলে ছবি ও মেসেজ উদ্ধার করা কঠিন হতে পারে।
আজই কী করবেন?
প্রথমত, Google অ্যাকাউন্টে Inactive Account Manager চালু করুন।
দ্বিতীয়ত, Apple ব্যবহার করলে Legacy Contact নির্ধারণ করে অ্যাক্সেস কী নিরাপদে রাখুন।
তৃতীয়ত, পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের জরুরি অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করুন এবং ফোনের পিন নিরাপদ উপায়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে রাখুন।
এস্টেট প্ল্যানিংয়ের সময় উইলে ডিজিটাল সম্পত্তি সংক্রান্ত নির্দেশও রাখা যেতে পারে। তবে শুধু উইল থাকলেই সব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার মিলবে, এমন নয়। সময় থাকতে পরিকল্পনা করলেই মৃত্যুর পর পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
