এ যেন অলৌকিক ঘটনা! ২০১৪ সাল থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত লেবাননের তরুণী নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ালেন ১২ বছর পর। আর এই অসাধ্যসাধন তিনি ঘটিয়েছেন রোবটের সাহায্যে। লেবাননের ওই তরুণীর নাম জেসিকা তাউইল। তিনি সম্প্রতি এমন এক মাইলফলকের মুহূর্ত সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন যা একসময় তাঁর কাছে অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত থাকার পর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পা ফেলেছেন তিনি। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই জেসিকার কঠিন সংগ্রামের দিন শুরু হয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার ফলে তিনি ‘টি৬ প্যারাপ্লেজিয়া’য় আক্রান্ত হন। ওই রোগের কারণে তিনি শরীরের নীচের অংশ নড়াচড়া করানোর ক্ষমতা হারান। দুর্ঘটনার পর থেকে জেসিকা হুইলচেয়ারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সে ভাবেই কেটেছে দীর্ঘ ১২ বছর।
দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটাচলা জেসিকার প্রাত্যহিক জীবনের অংশ ছিল না। তবে সহায়ক প্রযুক্তির অগ্রগতি মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চলাফেরার নতুন সুযোগ করে দিয়েছে। জেসিকা ‘ইভ’ নামের একটি রোবোটিক এক্সোস্কেলিটন ব্যবহারের ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন, যা তাঁকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে ও পা ফেলে হাঁটতে সহায়তা করেছে।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ওই ভিডিয়োয় জেসিকাকে রোবোটিক এক্সোস্কেলিটন ব্যবহার করে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। ভিডিয়োয় তাঁর আবেগঘন হয়ে ‘হা ইশ্বর’ উক্তি এবং মুখে ফুটে ওঠা আনন্দের উজ্জ্বল অভিব্যক্তি নজর কেড়েছে নেটপাড়ার। ভিডিয়োটি জেসিকার জীবনের যাত্রাপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। জেসিকার অভিজ্ঞতা অনলাইনে মানুষের মনে গভীর সাড়া জাগিয়েছে এবং পক্ষাঘাত নিয়ে বেঁচে থাকার চ্যালেঞ্জ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনার প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
