দিল্লি হাইকোর্ট বুধবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে ভর্ৎসনা করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তারা। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন তারা। এ অভিযোগে তাদেরকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আচরণ নিয়ে আদালত কঠোর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন বিচারক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
বিক্ষোভে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত বলেন, আপনারা বিক্ষোভের সামনের সারিতে থাকেন। আপনারা যখন ব্যারিকেড ভাঙেন, তখন আরও অনেকের আপনাদের অনুসরণ করার আশঙ্কা থাকে। এমন লোকও থাকতে পারেন, যাদের ওপর আপনাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। এরপর বিচারপতি সুব্রামানিয়াম প্রসাদ অন্যান্য দেশে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা আমাদের দেশের বাইরেও এমন ঘটনা ঘটতে দেখেছি। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তা পরে অগ্নিসংযোগ ও ভবনে আগুন দেয়ার ঘটনায় রূপ নিয়েছিল। সিজেপি নেতাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আদালত তাদের প্রথম গ্রেপ্তারের পর স্বাক্ষর করা শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গের বিষয়টিও সামনে আনেন। সিজেপির নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অভিজিৎ দিপকে’কে গত ১০ই অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে প্রথম আটক করা হয়। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা দেয়ার পর একই দিন তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
তবে যন্তর মন্তরে তিরঙ্গা বিক্ষোভ আয়োজনের চেষ্টা করলে ১৪ই অক্টোবর দাস ও রাঙ্কাকে আবার আটক করা হয়। এরপর তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সময় ১৯শে অক্টোবর দেয়া আদেশে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) পর্যবেক্ষণ করেন, অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে শান্তিভঙ্গের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন সিজেপি নেতারা। মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে তাদের তিরস্কার করে হাইকোর্ট প্রশ্ন করেন, আপনারা যখন মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেন, তখন কর্তৃপক্ষ কি আরও কঠোর শর্তে মুচলেকা চাইতে পারে না?
সিজেপি নেতাদের বয়স সম্পর্কেও জানতে চান আদালত। তাদের বয়স যথাক্রমে ২৭ ও ৩১ বছর জানানো হলে বিচারপতি মন্তব্য করেন, রাঙ্কা ও দাস জেন-জি প্রজন্মের নন। এরপর সিজেপির আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আদালত বলেন, তাহলে আপনারা জেন-জি নন। মিলেনিয়ালদের বয়স কত? আগে এটি ছিল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সেখানে শিশুরাও ছিল। কিন্তু এখন আন্দোলনের উদ্দেশ্য অন্য। মানুষ একই আছে, কিন্তু উদ্দেশ্য বদলে গেছে। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, উদ্দেশ্য এবং তিনি জীবনে কী করেন—এসব বিষয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বলেও পর্যবেক্ষণ করেন আদালত।
সিজেপি নেতাদের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, পরবর্তী প্রশ্ন হলো, আপনারা কারা? আপনারা কী করেন? কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত? ওই সংগঠনের উদ্দেশ্য কী? যখন শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে, তখন এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
