সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণকালে চার জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জিয়া বাহিনী। জিম্মি করার পর নির্যাতন চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় শেষে খোকা গাজী নামের এক জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো জিম্মি রয়েছেন তিন জেলে। জেলেদের ফিরে পেতে পরিবারপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে দস্যুরা। অপহৃত জিম্মি থাকা জেলেরা হলেনÑ শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের বাসিন্দা মাছুম পাড়, আহম্মাদ শেখ এবং শহিদ গাজী। মুক্তি পাওয়া খোকা গাজীও একই এলাকার বাসিন্দা। দ্রুত দাবিকৃত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে জিম্মিদের হত্যার হুমকি দিয়েছে দস্যুরা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচ দিন আগে বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিস থেকে পাস নিয়ে ওই চার জেলে সুন্দরবনের গহিনে যান। গত রোববার রাতে পশ্চিম সুন্দরবনের বাদুড়ঝুলি খালে নৌকা নোঙর করে অবস্থানকালে ট্রলারযোগে এসে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের ওপর হামলা চালায় জিয়া বাহিনীর সদস্যরা। বনদস্যুরা চার জেলেকে বেধড়ক মারধর করে জিম্মি করে নিজেদের গোপন আস্তানায় নিয়ে যায়। অপহরণের পর বনদস্যুরা খোকা গাজীর স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। জীবন বাঁচাতে স্বজনরা ধারদেনা করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করলে গত মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবনের সীমান্ত এলাকা থেকে খোকা গাজীকে ছেড়ে দেয় দস্যুরা।
ফিরে আসা খোকা গাজী জানান, সুন্দরবনের গহিনে আরও একাধিক জেলে দলকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। অস্ত্রের মুখে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বাকি তিন জেলেকে মুক্ত করতে লোকপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে দ্রুত পাঠাতে বলেছে দস্যুরা। এদিকে দিনমজুর পরিবারের পক্ষে এ অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় অপহৃতদের পরিবারে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বজনরা জিম্মিদের দ্রুত জীবিত উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহীনুর ইসলাম জানান, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে উদ্ধার তৎপরতাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।