রাজশাহীর তাহেরপুরে গিয়ে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনেসহ নানা কৃষিপণ্য কেনার কথা ছিল তাদের। উদ্দেশ্য ছিল এসব পণ্য কিনে নিজ এলাকায় এনে বিক্রি করবেন। কিন্তু সেই ব্যবসায়ী স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী।
আজ মঙ্গলবার ভোরে পাবনা-নাটোর মহাসড়কের বনপাড়া সরকারপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী এক বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। এতে মোট ১৪ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫। খবর পেয়ে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত হতাহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। নিহত ১৪ জনের মধ্যে জাজিরা উপজেলার একই এলাকার পাঁচজন ব্যবসায়ী রয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর মঙ্গলবার সকালে জাজিরায় পৌঁছালে শোকের মায়াকান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহতরা হলেন—জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন বেপারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে কাজিরহাট ও আশপাশের বাজারে পাইকারি কৃষিপণ্য কেনাবেচা করতেন। কাজের সুবাদে এবং একই অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের মধ্যে চমৎকার সুসম্পর্ক ছিল। নিয়মিতই বিভিন্ন জেলা থেকে মালামাল সংগ্রহ করে আনতেন তারা। এবারও ব্যবসার তাগিদে একসঙ্গে রাজশাহীর দিকে রওনা হয়েছিলেন, কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হলো না।
কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার বলেন, ব্যবসায়িক সূত্রে তাদের সবার সঙ্গেই আমার বেশ সুসম্পর্ক ছিল। এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ জানান, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তারা দুর্ঘটনার তথ্য পেয়েছেন। তবে নাটোর স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মরদেহগুলো জাজিরায় হস্তান্তরের বিষয়ে তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে পরিবারের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে পণ্যের খোঁজে বের হয়ে এভাবে অকালে প্রাণ হারানোর ঘটনায় নিহতের পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে চরম শোকের মাতম চলছে।
