ভারতের মণিপুরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত ৩
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মরদেহ রেখে বিক্ষোভ
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
ভারতের মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে ইম্ফল পূর্ব জেলার উয়ুমপোক এলাকায় সন্দেহভাজন কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে মরদেহ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে রেখে বিক্ষোভ করেছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশর সিংয়ের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে ইম্ফল পূর্ব জেলা ও কুকি-অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী অরুবাম রনিল, ৪৪ বছর বয়সী লাইরেনলাকপাম ইনায়োবি এবং ৩২ বছর বয়সী ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে ইম্ফলের রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের কারণে ইম্ফল শহরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই রাতে ও সোমবার সকালে পৃথক দুটি ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশর সিং কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে হামলার স্থানটির কাছে অবস্থিত সিনাই ক্যাম্প নামে পরিচিত সাসপেনশন অব অপারেশনস (এসওও) ক্যাম্পটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিধায়কের ভাষ্য, আসাম রাইফেলসের সদস্যরা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া লোকজনকে নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপরও হামলার ঘটনায় ওই এলাকার বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে এই হত্যাকাণ্ডে পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং সাম্প্রতিক সময়ের তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখন হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্ত এবং নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার মুখে রয়েছে।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
