অবৈধ ড্রেজারে মাটি কাটা, কৃষিজমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার ও খাল ভরাটে দিন দিন কমছে আবাদি জমি। কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় গত পাঁচ বছরে কৃষিজমি কমেছে ১ হাজার ৬৭৫ বিঘা।
একই সঙ্গে খাল ভরাটের কারণে প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪৭০ বিঘা। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৭৯৫ বিঘায়।
কৃষিজমি ধ্বংসের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের খুরুইল গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে, প্রবহমান খাল ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণ করায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের পথ। এতে মুরাদনগরের খুরুইল ও দেবিদ্বারের মধুরা এলাকার প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা ফসলি জমিতে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব জমিতে দুই মৌসুমে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন আউশ ও আমন ধান উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৭৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫০ টাকা।
দুই মৌসুমে ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার হিসাব
আউশ – ৮৮ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন
আমন – ৯৪ হাজার ৫০ মেট্রিক টন
মোট – ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা কৃষি অফিসার পাভেল খান পাপ্পু বলেন, কৃষিজমি রক্ষা ও ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ভরাট খাল খুলে দিয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা জরুরি।
কৃষিজমি রক্ষা ও ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ ড্রেজারে মাটি কাটা ও কৃষিজমি ধ্বংসের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চান ভুক্তভোগী কৃষকরা।
The post অবৈধ ড্রেজারে হুমকিতে কৃষিজমি, ৫ বছরে কমেছে ১৬৭৫ বিঘা appeared first on Dhaka Protidin.
