যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলে বিশ্ব দেখতে পারত, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ব্যবস্থা নেয়। তবে অনেক বিবেকবান মানুষ তার মৃত্যুর দৃশ্য দেখতে চান না। তাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য কোনো মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।
ট্রাম্প জানান, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তা দেখতে পারবেন। তাদের ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং ৩০ জনের বেশি মানুষকে আহত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন নাদাল হাসান। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১টায় টেক্সাসের ওই সামরিক স্থাপনায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে।
গত সপ্তাহে ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী জ্যাক পোসোবিয়েচের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ জানিয়েছিলেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসাধারণকে দেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে। তার ভাষ্য ছিল, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি মানুষকে বোঝানো প্রয়োজন।
তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের নেতাদের কাছ থেকেই সমালোচনা আসে। তাদের আশঙ্কা, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করলে তা ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসীদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করা কিংবা নতুন সদস্য সংগ্রহের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, এমন ভিডিও ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসীদের নিয়োগের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, তিনি নিজে ওই মৃত্যুদণ্ড দেখতে চান না।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল জানান, সরাসরি সম্প্রচার বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীও প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত বলে জানান তিনি।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে আফগানিস্তান ও ইরানে। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৩৬ সালে। সে সময় রেইনি বেথিয়া নামের এক ব্যক্তির ফাঁসি দেখতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৬১ সালে। আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৪৫ সালের পর এই পদ্ধতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা হবে এটি।