কুমিল্লার দেবীদ্বারে দিনমজুর মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলায় আবদুল মজিদ নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লার বিজ্ঞ পারিবারিক আপিল আদালত ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাউদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল মজিদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল মজিদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দিন ২০১১ সালের ২১ নভেম্বর সকালে মোশাররফ ও মজিদ দুটি কোদাল নিয়ে টমেটোখেতে কাজ করতে যান। এসময় মোশাররফের রক্তমাখা লাশ জমিতে পড়ে ছিল।
এ ঘটনায় মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আবু জাহের তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আবদুল মজিদকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। পরে আদালত আবদুল মজিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে তাকে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের (এপিপি) অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা মুক্তি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স ল'ইয়ার) অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম (স্বপ্না)।
এমই
