নরসিংদীর চৌয়ায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর, গুলি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভাঙচুরের সময় কার্যালয়ে থাকা মাছুম মিয়া নামে এক ব্যক্তি আহত হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে এলাকার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারি হয়। পরে হঠাৎ দুর্বৃত্তরা এসে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করে।
আহত মাছুম মিয়া বলেন, ‘চৌয়া গ্রামের বিএনপির কার্যালয়টি দেখাশুনা করেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি ভেতরে শুয়ে ছিলেন। একদল লোক এসে কার্যালয়টি ভাঙচুর করে। এ সময় গুলিও করেছে তারা।’
দুর্বৃত্তরা অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে বিএনপি নেতাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘মাধবদী থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
ঘটনাস্থলে দুর্বৃত্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে এ ঘটনায় কারো পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়নি বলে জানান তিনি ।
শাওন খন্দকার শাহিন/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
মাছ শিকারের বিষে বিপর্যস্ত সাঙ্গু
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
বিষ প্রয়োগের পর মাছ শিকারে ব্যস্ত কয়েকজন শৌখিন মৎস্য শিকারি। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া বোমাংহাট থেকে সোমবার দুপুরে তোলা।ছবি: খবরের কাগজ
-->চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় রাতের আঁধারে সাঙ্গু নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর মাছ ও জলজ উদ্ভিদ মারা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাতকানিয়ার পুরানগড়, বাজালিয়া ও চন্দনাইশের দোহাজারী, ধোপাছড়ি এলাকায় সাঙ্গু নদীতে শত শত মানুষকে জাল নিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, ধোপাছড়ি অংশে বিষ প্রয়োগের পর নদীর পানির স্রোতে সেই বিষ চন্দনাইশের ধোপাছড়ি হয়ে সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকায় পৌঁছেছে। এ ঘটনায় নদীর জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সাতকানিয়ার বাজালিয়ার বোমাংহাট এলাকায় মাছ শিকার করতে আসা নবী হোসেনের দাবি, ‘বিষের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়া মাছ সহজেই জালে ধরা পড়ছে। ফলে অল্প সময়েই অনেকে বেশ ভালো পরিমাণ মাছ পেয়েছেন। তবে মাছ ধরার এই দৃশ্যের আড়ালে নদীর বাস্তুতন্ত্রের ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
বাজালিয়া ইউনিয়নের মৎস্যচাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অসাধু ব্যক্তিরা চিংড়ি মাছ আহরণের উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে নদীতে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষের প্রভাব কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সাঙ্গু নদীতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার ব্যাহত হতে পারে। এমনকি নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলে ও সাধারণ মানুষের জীবিকাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মৎস্য কার্যালয়গুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আব্দুল আজিজ নামে ওই এলাকার এক যুবক বলেন, ‘নদীতে অবৈধভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। কয়েক মাস পরপর বিষ প্রয়োগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাঙ্গু নদীর মৎস্য সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।’
এ বিষয়ে জানতে চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (সাতকানিয়া উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানবীর আহসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে তিনি প্রতিবেদকের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে মিটিংয়ে থাকার কথা জানান।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, ‘সাঙ্গু নদীতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি এখন পর্যন্ত কেউ আমাকে জানাননি। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
আরও পড়ুন
ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন। ছবি: সংগৃহীত
-->ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশ হেফাজত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীনকে (৩০) ছিনিয়ে নিয়েছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামে ফুটবল খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদরাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের ফুটবল খেলা শুরু হয়।
খেলাটির উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা দেখতে সেখানে উপস্থিত হন রিয়াজুল আলম। পরে তার অবস্থানের খবর পেয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, রিয়াজুলকে আটক করতে গেলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকে সিএনজিতে তোলা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই সিএনজি ভাঙচুর এবং হাত কড়াসহ তাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে । তবে হাতকড়া পরানো হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে স্থানীয় সূত্রের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজুলের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।
এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন। সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া বলেন, ‘তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। দূরের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। দূর থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ধস্তাধস্তি দেখেছেন।’
রিয়াজুল আওয়ামী লীগ করেন বলেই পুলিশ তাকে ধরেছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনায় তার নাম জড়ানো হচ্ছে।
সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ ঘটনায় তার নাম জড়ানো হচ্ছে। তিনি পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছেন।’
আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি একটি বিশেষ অভিযানে আছেন। বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে। পরে কথা বলবেন।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘রিয়াজুল মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে পালাতে সহযোগিতা করেন।’
তবে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া বা গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ওসি জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ফয়সল আহমেদ/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে বাবা মেয়ের মৃত্যু
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও তার দুই বছর বয়সি শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াখালের উত্তর পাশে ইকবাল কনভেনশন হল সংলগ্ন ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও বাধা দেওয়া হয়। এতে প্রায় ২ ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
নিহত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন (৩২) এবং তার দুই বছর বয়সি মেয়ে ওয়াসিফা। দেলোয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মলিয়াবাদ গ্রামের সায়রার বর বাড়ি এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামগামী একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেরানীহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে দেলোয়ার হোসেনের মেয়ের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন মিনিবাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করা হয়। পরে সাতকানিয়া থানার একটি টিম পুলিশদের উদ্ধারের উদ্দেশ্যে গেলে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়াও রাত ৮টার দিকে বাসের আগুন নেভাতে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট তৈরি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ অবরোধকারীদের ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তিনি দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা, পুলিশের ওপর হামলা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করেন। এমনকি তারা থানা পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও অটোরিকশাটি এখন আমাদের হেফাজত রয়েছে। এ ছাড়াও বাবা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, ‘দুষ্কৃতিকারীরা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে অস্ত্র লুটের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এমনকি আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের এবং হাইওয়ে পুলিশকে ধাওয়া করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরিফুল ইসলাম/অলি/
আরও পড়ুন
শ্রীনগরে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের হাঁসাড়া এলাকায় সড়ক বিভাজনের রেলিং ভেঙে সার্ভিসলেন পেরিয়ে পাশের খাদে পড়ে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি দর্শনা পরিবহনের। এটি চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় বেপরোয়া গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের ডোবায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
ঘটনাস্থল থেকে এ সময় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন তারা। এছাড়া ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। অপর আহত পাঁচজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত তিন জনের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মইনুদ্দীন আহমেদ/অলি/
