রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী ঝটিকা অভিযাস চলাকালে ব্যক্তিগত লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও কারণ তুলে ধরেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, আকস্মিক নিরাপত্তাঝুঁকি ও সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা থেকেই আত্মরক্ষার তাগিদে তাঁকে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরতে হয়েছিল এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই তা যথাস্থানে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়।
বিবৃতিতে ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক ও করাতিটোলাসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের রমরমা বাণিজ্য এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকের ভয়ংকর বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। এর আগে গত জুনে মাদক সংক্রান্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি স্বয়ং ওই এলাকা পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক জরুরি সমন্বয় সভা করেন। এছাড়া মাদক কারবারিদের শক্ত আস্তানাগুলোর কাছাকাছি একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং তীব্র জনবলসংকট দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে ইতোমধ্যে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের যৌথ সিদ্ধান্তে একটি সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন মাদকপ্রবণ এলাকাটি পরিদর্শনে যান ইশরাক হোসেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাঁকে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। বিশেষ করে মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে অতর্কিত হামলা বা গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার বাস্তব পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, নির্ধারিত কর্মসূচি চলাকালে বহরটি একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছামাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী অত্যন্ত মারমুখী ভঙ্গিতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে তেড়ে আসে। আকস্মিক এই আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি ও হামলার আশঙ্কা থেকে তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে আত্মরক্ষার্থে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রটি বের করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ত্রটি আবার যথাস্থানে রেখে দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ওই এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই গেন্ডারিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এই সফল অভিযানে চার থেকে পাঁচিলের অধিক অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ছয়জনকে আটক করে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
তবে পুরো ঘটনাটি নিয়ে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি গণমাধ্যম মাদক উচ্ছেদ, পুলিশি অভিযান এবং ছয়জন আটকের মূল বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে কেবল তাঁর অস্ত্র প্রদর্শনের দৃশ্যটি খণ্ডিতভাবে প্রচার করেছে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ঢাকা-৬ আসনকে যেকোনো মূল্যে মাদকমুক্ত করতে তিনি বদ্ধপরিকর। কোনো ধরনের অপপ্রচার বা খণ্ডিত তথ্য প্রকাশ করে এই সামাজিক আন্দোলন কোনোভাবেই থামিয়ে রাখা যাবে না এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
