জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) তৃতীয় রাউন্ডের চতুর্থ দিনে চট্টগ্রাম বিভাগকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে খুলনা বিভাগ। এই জয়ের নায়ক বদলি হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়া খুলনার বাঁহাতি স্পিনার রাকিব হাওলাদার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অভিষেকেই দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন এই তরুণ ক্রিকেটার।
গতকাল চোট পাওয়া সামিউন বশির রাতুলের কনকাশন বদলি হিসেবে খেলতে নেমেছিলেন রাকিব। পরে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ৫ উইকেট শিকার করেছেন।
রাতুল মাথায় আঘাত (কনকাশন) পেলে ম্যাচ চলাকালীন বদলি হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পান এই তরুণ বাঁহাতি স্পিনার। বাকিটা মাঠেই প্রমাণ করলেন। রাকিবের এমন পারফরম্যান্সে সবচেয়ে খুশি সম্ভবত খুলনার প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকা তুষার ইমরান।
রাকিবের বয়স আঠারো। ছিমছাম দেহের অধিকারী হওয়ায় বয়সটা আরও কম বলে মনে হতে পারেই যে কারোর। প্রথম বিভাগ কিংবা অনূর্ধ্ব ১৯ কোথাও না খেলা একটা ছেলে সরাসরি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সুযোগ পেলেন। ব্যাপারটা জানতে ফিরতে হবে একটু পেছনে।
খুলনার প্রধান কোচের দায়িত্বে তুষার ইমরান। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে হাজার হাজার রান করেছেন ঘরোয়াতে। এরপর যোগ দিয়েছেন কোচিং পেশাতে। তার চোখ যে জহুরির চোখ সেটার প্রশংসা তো করতেই হয়।

বয়সভিত্তিক দলে থাকায় রাকিবকে অনেক আগে থেকেই চেনেন জানেন তুষার। যে কারণে তার প্রতি আস্থা রেখেই নিজে দায়িত্ব নিয়ে দলে ভেড়ান রাকিবকে। প্রথম দুই রাউন্ডে দলে জায়গা হয়নি তার। তবে উদ্বোধনী ম্যাচ খুলনায় কাভার করতে গিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক। কাছ থেকে তার বোলিং অনুশীলন দেখলে রাকিবের প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ থাকার কথা না।
রাকিবের অনবদ্য অভিষেকে সবচেয়ে খুশি দলটির কোচ তুষার ইমরান। প্রতিবেদক এই কোচকে অভিনন্দন জানাতেই ঠোটের কোণে এক চিলতে হাসি নিয়ে তুষার জানালেন, ‘সে আস্থার প্রতিদান দিয়েছে।'
তুষার বলছিলেন, ‘রাকিবকে চিনি অনেকদিন ধরে। বয়সভিত্তিক দল থেকে দেখেছি তার মধ্যে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তখনই ভেবেছিলাম সে লম্বা রেসের ঘোড়া। এরপর এনসিএলে তাকে দলে ভেড়ালাম এক প্রকার নিজে দায়িত্ব নিয়ে, যুদ্ধ করে। কারণ সে কোথাও খেলেনি একবারে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেললো এবং পারফর্ম করে দেখালো। সে অনেক বছর পারফর্ম করবে এটা মনে করি।'
রাকিব হাওলাদার নিজে কি ভেবেছিলেন এমন অভিষেকের কথা। সেটাও কনকাশন হিসেবে মাঠে নেমে। ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জেতানো রাকিব বলছিলেন, 'ভালো লাগছে। স্যার আগে থেকে রেডি থাকতে বলেছিলেন। সুযোগ আসবে সেটা কাজে লাগাতে হবে। আমি সেটাই করেছি। আমি শুধু ভালো জায়গায় বল করে যেতে চেয়েছি। সফল হয়েছি। সামনে এ ধারাটা অব্যাহত রাখতে চাই।'
রাকিবের প্রথম শ্রেণীতে দ্রুত খেলা এবং পারফর্ম করায় খুশি জাতীয় দলের নির্বাচক নাদিফ চৌধুরী। বয়সভিত্তিক দল থেকেই এই স্পিনারকে চেনেন নাদিফ। তিনি বলছিলেন, 'আমি রাকিবকে চিনি অনেক আগে থেকে। ইমরান (তুষার) ভাই যখন আমাদের কাছে তার কথা বলল আমরা ভেবেছিলাম। এখন তো পারফর্ম করে দেখালো। এভাবে তরুণরা পারফর্ম করলে দেশের জন্য ভালো। আশা করি সে এটা অব্যাহত রাখবে।'
এসএইচ
