- Anandabazar
- Photogallery
- Forest City: Inside Malaysia's Chinese-built 'Ghost City', all you need to know about what happened to abandoned 100 billion dollar development dgtl
নির্জন সৈকতে ঠিকানাহীন সিঁড়ি, নিশ্চুপ শয়ে শয়ে ইমারত, পথঘাট! কেন জনপ্রাণীর সাড়া মেলে না ‘ভূতুড়ে শহরে’?
মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকগুলির প্রতিটিতে শত শত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। কিন্তু, হাতেগোনা ছ’টিতে আলো জ্বলতে দেখা যায়। বিশ্বাস করা কঠিন যে এখানে আদৌ কেউ বসবাস করেন।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:২৫
০১ / ১৮
বিশাল আবাসন কমপ্লেক্স। কিন্তু পয়সা দিয়েও সেখানে কেউই থাকতে চান না। কষ্ট করে দিন কয়েক থাকলেও ছুটে পালাতে চাইবেন যে কেউ। আবাসনের চারপাশ পরিষ্কার, ঝকঝকে রাস্তাঘাট। এত ভাল করে রক্ষণাবেক্ষণ করা অথচ সেগুলি উপভোগ করার মতো কেউ নেই। গোটা শহরটাই যেন প্রাণহীন। সমুদ্রের দিকে মুখ করা টাওয়ার ব্লকের এক শয্যাবিশিষ্ট ফ্ল্যাটের জানলা দিয়ে মনোরম প্রকৃতি ধরা দেয় ঠিকই, তবে, কিছু ক্ষণের মধ্যেই একাকীত্ব গ্রাস করতে পারে!
০২ / ১৮
দক্ষিণ মালয়েশিয়ার একেবারে প্রান্তে জোহরে অবস্থিত ‘ফরেস্ট সিটি’। চিনের তৈরি একটি বিশাল আবাসন কমপ্লেক্স। চিনের বৃহত্তম আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘কান্ট্রি গার্ডেন’ ২০১৬ সালে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে ১০০,০০০,০০০,০০০ ডলার মূল্যের এই মেগা-প্রকল্প ‘ফরেস্ট সিটি’ উন্মোচন করে। প্রকল্পটি একটি ‘স্বর্গীয় শহর’ তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। জানা যায়, মালয়েশিয়ার নতুন শহরটিকে ‘ভবিষ্যতের স্মার্ট শহর’ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা প্রকৃতি এবং স্থাপত্যের সমন্বয়ে একটি রূপকথার শহরে পরিণত হবে। তবে, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটেনি। প্রকল্পটি ব্যর্থ হয় এবং এখনও পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের মাত্র ১৫ শতাংশ নির্মিত হয়েছে।
০৩ / ১৮
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সেই সময় চিনে আবাসন ব্যবসা তুঙ্গে ছিল। নির্মাণকারীরা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য দেশে এবং বিদেশে আবাসন নির্মাণের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করছিলেন। মালয়েশিয়ায় ‘কান্ট্রি গার্ডেনের’ পরিকল্পনা ছিল একটি পরিবেশবান্ধব মহানগরী গড়ে তোলা। সেখানে গল্ফ কোর্স, ওয়াটারপার্ক, অফিস, বার এবং রেস্তরাঁ রাখার পরিকল্পনা ছিল। সংস্থা দাবি করেছিল, ‘ফরেস্ট সিটি’ প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের আবাসস্থল হবে। কিন্তু, বর্তমানে এর মাত্র কয়েকটি ইউনিটে গুটি কয়েক লোক বসবাস করেন।
০৪ / ১৮
এক দশক পরেও প্রকল্পটি এক ঊষর নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এটি মনে করিয়ে দেয়, চিনের আবাসন সঙ্কটের প্রভাব বোঝার জন্য সে দেশে থাকার প্রয়োজন নেই। এমন ধারণাও করা হয়, ‘ফরেস্ট সিটি’তে সম্পত্তির দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়েরা তা কিনতে পারছিলেন না, যার ফলে এলাকাটি খালি পড়ে ছিল।
০৫ / ১৮
‘ফরেস্ট সিটি’র প্রচার করা হয়েছিল ‘সমগ্র মানবজাতির জন্য এক স্বপ্নিল স্বর্গ’ হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে এটি সরাসরি চিনের অভ্যন্তরীণ বাজারকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রকল্প উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষদের বিদেশে সম্পত্তির মালিক হওয়ার সুযোগ দিত। কারণ হিসেবে জানা যায়, সেখানে বাড়ির বিক্রয়মূল্য সাধারণ মালয়েশীয়দের নাগালের বাইরে ছিল। চিনা ক্রেতাদের জন্য সম্পত্তিটি একটি বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা স্থানীয় মালয়েশীয়দের কাছে ভাড়া দেওয়া যেতে পারে অথবা অবকাশ যাপনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
০৬ / ১৮
বাস্তবে নিকটতম প্রধান শহর জোহর বাহরু থেকে অনেক দূরে পুনরুদ্ধার করা দ্বীপের উপর নির্মিত ‘ফরেস্ট সিটি’র বিচ্ছিন্ন অবস্থান ভাড়াটেদের উৎসাহ জোগাতে পারেনি। এর ফলে স্থানীয় ভাবে এটি ‘ভূতুড়ে শহর’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে সেটি। ‘ফরেস্ট সিটি’র পরিবেশকে বেশ অদ্ভুত বলেও উল্লেখ করেছেন ভ্রমণ ভ্লগারেরা। তাঁদের মতে, এটিকে একটি পরিত্যক্ত অবকাশকেন্দ্রের মতো মনে হয়।
০৭ / ১৮
এখানে নির্জন সৈকতে রয়েছে শিশুদের একটি জীর্ণ খেলার মাঠ, মরচে ধরা পুরনো গাড়ি এবং সাদা কংক্রিটের তৈরি সিঁড়ি, যা শুরু হয়ে মাঝপথেই থেমে গিয়েছে। জলের ধারে কুমিরের কারণে সাঁতার কাটতে নিষেধ করে সতর্কতামূলক চিহ্ন রয়েছে।
০৮ / ১৮
বিশেষ ভাবে নির্মিত শপিং মলের অনেক দোকান এবং রেস্তরাঁ বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিছু জায়গা নির্মীয়মাণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই ‘ভৌতিক, পরাবাস্তব’ আবহে বাচ্চাদের একটি খালি ট্রেন চিনা ভাষায় একটানা একটি গান বাজাতে বাজাতে মলের চারপাশে অবিরাম চক্কর দেয়।
০৯ / ১৮
পাশের ‘কান্ট্রি গার্ডেনের’ শোরুমে একটি বিশাল মডেল শহর রয়েছে। সেখানে দেখানো হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ ‘ফরেস্ট সিটি’ দেখতে কেমন হবে। স্টলে বসে থাকেন দুই বিরক্ত কর্মচারী। তাঁদের মাথার উপরের সাইনবোর্ডে লেখা— ‘ফরেস্ট সিটি; যেখানে সুখের কোনও শেষ নেই।’
১০ / ১৮
এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এলাকাটির শুল্কমুক্ত অবস্থা। সৈকতে ফেলে দেওয়া মদের বোতলের স্তূপ এবং স্থানীয় নেশাড়ুদের ছোট ছোট দল দেখতে পাওয়া যায়। তাঁরাই এই শহরের সিংহভাগ কার্যকলাপ চালান।
১১ / ১৮
রাত নামলে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যায় ‘ফরেস্ট সিটি’। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকগুলির প্রতিটিতে শত শত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। কিন্তু, হাতেগোনা ছ’টিতে আলো জ্বলতে দেখা যায় সেখানে। বিশ্বাস করা কঠিন যে এখানে আদৌ কেউ বসবাস করেন। এক স্থানীয়ের কথায়, “এমনকি দিনের বেলাতেও সামনের দরজা দিয়ে বেরোলে করিডরটা অন্ধকার থাকে।”
১২ / ১৮
ওই স্থানীয় বাসিন্দা এবং তাঁর স্বামী একটি বহুতল ভবনের ২৮তলায় থাকেন। পুরো তলাটিতে তাঁরাই একমাত্র ভাড়াটিয়া। তবে তাঁরাও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “যাঁরা এখানে বিনিয়োগ করে জায়গা কিনেছেন, তাঁদের জন্য আমার দুঃখ হয়।”
১৩ / ১৮
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, নির্মাণকারীদের বছরের পর বছর ধরে লাগামহীন ঋণ গ্রহণের পর, সরকার একটি বুদবুদ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করে এবং ২০২১ সালে কঠোর সীমা আরোপ করে। এই সব পদক্ষেপের ফলে কোম্পানিগুলির বিশাল বিশাল প্রকল্প শেষ করার মতো নগদ অর্থ ফুরিয়ে যায়।
১৪ / ১৮
‘ফরেস্ট সিটি’র বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কারণও। ২০১৮ সালে, মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহথির মহম্মদ ‘বিদেশিদের জন্য নির্মিত একটি শহর’-এর প্রতি তাঁর আপত্তির কথা উল্লেখ করে চিনা ক্রেতাদের জন্য ভিসা সীমিত করেছিলেন।
১৫ / ১৮
রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল নয়, এমন একটি দেশে মেগা-উন্নয়ন প্রকল্প নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিছু বিশ্লেষক। বর্তমান মালয়েশীয় সরকার এই প্রকল্পের সমর্থক হলেও, ক্রেতাদের কাছে এটি স্পষ্ট নয় যে এই সমর্থন কত দিন এবং কী পরিমাণে স্থায়ী হবে।
১৬ / ১৮
চিনের আবাসন সঙ্কটের ক্ষেত্রে ‘ফরেস্ট সিটি’ হল উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম বাস্তবতার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কিছু স্থানীয় কারণ দায়ী হতে পারে। কিন্তু তা প্রমাণ করে, জনমানবহীন কোনও স্থানে হাজার হাজার অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করাই মানুষকে সেখানে বসবাস করতে রাজি করানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
১৭ / ১৮
খবরে প্রকাশ, মালয়েশিয়া ছাড়া আরও অন্যান্য দেশেও চিনের এমন আবাসন প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ‘ফরেস্ট সিটি’ এবং অন্যান্য জায়গায় এমনই শত শত প্রকল্পের পরিণতি কী হবে, সেই ভাগ্য নির্ভর করছে চিনা সরকারের উপরেই। তবে যে গুটি কয়েক বাসিন্দা এই ‘ফরেস্ট সিটি’তে রয়েছেন তাঁরাও ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন। আর ফিরে আসার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
১৮ / ১৮
অনেকের মতে, ‘ফরেস্ট সিটি’কে দেখতে শহর বলে মনে হলেও আসলে এটি একটি ফাঁপা খোলস মাত্র। জলের কাছাকাছি, সবুজের কাছাকাছি থাকতে পারলেও সেখানে নেই কোনও প্রতিবেশী। জনশূন্য যে শহর পর্যটক, ভাড়াটে এবং ট্র্যাভেল ভ্লগারদের অপেক্ষায় থাকে প্রতিটি ছুটির মরসুমেই, কিন্তু সে মরসুম আসে না কখনও।
সব ছবি: সংগৃহীত
পরবর্তী গ্যালারি
পুতিনের ডিজ়েল কিনে, জ়েলেনস্কিকে গালমন্দ! ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিগবাজির ফায়দা কি ভারত তুলতে পারবে?
সবাইকে চমকে দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজ়েল চুক্তি সেরে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর এহেন ভোলবদলে আখেরে লাভ হবে দিল্লির?
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০০
০১ / ১৮
কখনও রাশিয়ার সঙ্গে ডিজ়েল চুক্তি। কখনও আবার ইউক্রেনে রাষ্ট্রপ্রধান বদলের ডাক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনঘন ডিগবাজিতে বিরক্ত বিশ্ব। নভেম্বরে ‘মধ্যবর্তী’ (মিড টার্ম) নির্বাচন থাকাতেই কি এই সব পদক্ষেপ করছেন তিনি? নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য হিসেব? উত্তর যাই হোক না কেন, এতে পুড়তে পারে কিভের কপাল। অন্য দিকে, জ্বালানি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারতও।
০২ / ১৮
চলতি বছরের ৯ অক্টোবর সবাইকে চমকে দিয়ে মস্কোর জ্বালানি রফতানিতে বিধিনিষেধ শিথিল করেন ট্রাম্প। জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলে এই সংক্রান্ত একটি চুক্তি পাকা করেছেন তিনি। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, অবিলম্বে তিন লক্ষ টন ডিজ়েল আমেরিকা ও বিশ্ব বাজারে বিক্রি করবে ক্রেমলিন। নভেম্বরে আরও পাঁচ লক্ষ টন এবং পরে আরও ১০ লক্ষ টন ডিজ়েল পাঠাবে তারা।
০৩ / ১৮
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের নির্দেশ দেন পুতিন। পূর্ব ইউরোপে যুদ্ধ বাঁধতেই কিভের পাশে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার ঘাড়ে ১৬ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমি বিশ্ব। যার মধ্যে অন্যতম হল জ্বালানি বিক্রির বিধিনিষেধ। পরবর্তী বছরগুলিতে সেই রাশ আরও শক্ত করে আমেরিকা। চার বছরের মাথায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে তার উল্টো পথে হাঁটছেন ট্রাম্প।
০৪ / ১৮
আর তাই প্রত্যাশিত ভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে মস্কো। ক্রেমলিনের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, বিশ্ব বাজারে ডিজ়েলের জোগান দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। অন্য দিকে, রুশ জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দফতর। ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যা বলবৎ থাকবে। তবে, সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন।
০৫ / ১৮
আর্থিক বিশ্লেষকদের কথায়, জেনে বুঝেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। কারণ, গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে হু-হু করে চড়েছে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম। ফলে, ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যও। এতে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির উপর যথেষ্ট ক্ষুব্ধ আমজনতা। আর তাই ‘ড্যামেজ় কন্ট্রোলে’ পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় বাধ্য হয়েছেন ‘পোটাস’ (প্রেসিডেন্ট অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস)।
০৬ / ১৮
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মার্কিন পার্লামেন্টের ‘কংগ্রেস’-এ পাশ হওয়া ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান’ বিলে সই করেন ট্রাম্প। ফলে, আইনে পরিণত হয় সেটি। এতে রাশিয়া ও ইরানের থেকে খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বলা হয়েছে। যার জেরে চাপ বেড়েছে ভারতের। কারণ, জ্বালানি সুরক্ষায় মস্কোর তরল সোনায় অনেকাংশেই নির্ভরশীল নয়াদিল্লি।
০৭ / ১৮
যদিও, লিন্ডসে গ্রাহাম আইন পাসের ১৫ দিনের মধ্যেই ট্রাম্পের নীতিতে ফাঁস হয়েছে আমেরিকার ভণ্ডামি। খোদ যুক্তরাষ্ট্রই যদি রুশ ডিজ়েল কেনে, তা হলে কোন যুক্তিতে ভারতের উপর শুল্ক চাপাচ্ছে ওয়াশিংটন? আমেরিকার এহেন পদক্ষেপে চটে লাল ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তকে ‘দুর্বল ও অযোগ্য’ বলে তোপ দাগেন তিনি। যদিও এ সব গায়ে মাখছেন না ‘পোটাস’।
০৮ / ১৮
রুশ ডিজ়েল কেনার ট্রাম্পীয় ঘোষণার পর কড়া বিবৃতি দেন জ়েলেনস্কি। বলেন, ‘‘পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি ফেরা অসম্ভব। আরও সন্ত্রাস ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে এর প্রতিদান দেবে রাশিয়া। মস্কোকে পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির সুযোগ দিলে সেই টাকা লড়াইতেই বিনিয়োগ করবে তারা। এই উত্তেজনা প্রশমনে প্রকৃত পদক্ষেপের প্রয়োজন।’’ ক্রেমলিনের সঙ্গে দুর্বল আলোচনায় কোনও লাভ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
০৯ / ১৮
জ়েলেনস্কির আশঙ্কা সত্যি হতে বেশি সময় লাগেনি। রুশ-মার্কিন জ্বালানি চুক্তির রেশ কাটতে না কাটতেই ইউক্রেনে ফের বিমান হামলা চালায় মস্কো। তাদের আক্রমণে জাপোরিজ্ঝিয়ায় প্রাণ যায় তিন শিশু-সহ অন্তত ১২ জনের। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। যার পর ‘পোটাস’-এর করা বিস্ফোরক মন্তব্যে দুনিয়া জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
১০ / ১৮
গত ১০ অক্টোবর রুশ-মার্কিন জ্বালানি চুক্তি নিয়ে জ়েলেনস্কির করা সমালোচনার জবাব দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় ইউক্রেনের উচিত নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়ে আসা। এমন একজন, যিনি চুক্তি করতে পারেন। কোনও কারণে জ়েলেনস্কি সেটা পারেন না।’’ কিভের কুর্সিতে ‘পোটাস’ যে নতুন কাউকে চাইছেন, তাঁর এই মন্তব্যে সেটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
১১ / ১৮
ট্রাম্পের বক্তব্য, ২০২২ সালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকলে কোনও ভাবেই শুরু হত না রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। গণমাধ্যমের কাছে ফের একবার সেই প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। বলেন, ‘‘এই লড়াই বাঁধার কোনও কথা ছিল না। কোনও কারণ নেই। শুধু মাত্র অযোগ্যতার কারণে সেটা হচ্ছে। জ়েলেনস্কি নিজের দেশের ৩০ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছেন। ২০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছেন। তাই নতুন ব্যক্তির ইউক্রেনের ক্ষমতায় আসা উচিত।’’
১২ / ১৮
এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে (পড়ুন, ১১ অক্টোবর) রুশ-ইউক্রেন সম্পর্ক নিয়ে নতুন ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এ বার তাঁর দাবি, জ্বালানি ক্ষেত্রে যুদ্ধ বিরতির ব্যাপারে সম্মত হয়েছে মস্কো ও কিভ। শুধু তা-ই নয়, বিবদমান দু’পক্ষকে নাকি এই শর্ত মেনে চলার পরামর্শ দেয় খোদ আমেরিকা। যদিও সঙ্গে সঙ্গেই ‘পোটাস’-এর দাবি খারিজ করেন জ়েলেনস্কি। ‘এই খবর প্রথম শুনলাম’ বলে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।
১৩ / ১৮
অন্য দিকে, সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, ‘‘জ্বালানি সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি দ্রুত কার্যকর হচ্ছে। দুই দেশই সম্মতি জানিয়েছে। কেউ তা লঙ্ঘনও করবে না।’’ এই পোস্টের নীচে দুই দেশকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও জ়েলেনস্কির বক্তব্য, মস্কোকেও একই শর্ত মানতে হবে। তবেই এ ব্যাপারে রাজি হবে কিভ। কোনও একতরফা সিদ্ধান্তে সম্মতি জানাবে না ইউক্রেন।
১৪ / ১৮
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সংঘর্ষবিরতি প্রশ্নে ট্রাম্পের দাবির পর কোনও বিবৃতি দেয়নি রাশিয়া। উল্টো দিকে সংঘাত থামানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন জ়েলেনস্কি। এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘উত্তেজনা লাঘব, জীবন রক্ষা, যুদ্ধের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য আমরা যে কোনও পদক্ষেপকে সমর্থন করব। তবে অবশ্যই ইউক্রেনের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নয়।’’ ফলে লড়াই থামার ব্যাপারে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে।
১৫ / ১৮
উল্লেখ্য, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে মধ্যবর্তী বা মিড টার্ম নির্বাচন। সেখানে খারাপ ফল করলে মার্কিন পার্লামেন্টের ‘কংগ্রেস’-এ আধিপত্য হারাবে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। সে ক্ষেত্রে সরকার চালাতে ঘন ঘন সমস্যার মুখে পড়বেন ‘পোটাস’। আর তাই ভোটে জিততে একরকম মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের দাবি, সেই কারণেই নির্বাচনের ঠিক মুখে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজ়েল চুক্তি সেরেছে আমেরিকা।
১৬ / ১৮
২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসেন জ়েলেনস্কি। ২০২৪ সালে পূর্ব ইউরোপের ওই দেশটিতে পরবর্তী নির্বাচনের কথা থাকলেও সেটা হয়নি। যুদ্ধের কারণে সামরিক আইন জারি করে ভোট স্থগিত রেখেছে কিভ। যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন পুতিন। বহুবার প্রেসিডেন্ট হিসাবে জ়েলেনস্কির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এ বার কার্যত সেই একই সুর গেল ট্রাম্পের গলাতেও।
১৭ / ১৮
কূটনীতিকদের কথায়, রুশ-মার্কিন ডিজ়েল চুক্তিতে আখেরে লাভ হল ভারতের। এর জেরে শুল্ক সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাল্টা যুক্তরাষ্ট্রের উপর চাপ তৈরির সুযোগ পাবে দিল্লি। দ্বিতীয়ত, বিশ্ব বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধিতে কমতে পারে এর দাম। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য সেটাও যে যথেষ্ট স্বস্তির, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
১৮ / ১৮
যুক্তরাষ্ট্রের হাজার চোখ রাঙানি সত্ত্বেও রাশিয়ার থেকে খনিজ তেলের আমদানি কখনও পুরোপুরি বন্ধ করেনি ভারত। এ বছরের সেপ্টেম্বরে দিনে গড়ে ১৭.৪২ লক্ষ ব্যারেল তরল সোনা ভারতে পাঠায় মস্কো। ফলে তেল আমদানির ক্ষেত্রে এখনও প্রথম স্থান ধরে রেখেছে তারা। পাশাপাশি, ইউক্রেনীয় হামলায় শোধনাগারের ক্ষতি হওয়ায় দিল্লির থেকে হাজার হাজার টন পেট্রলও কিনছে ক্রেমলিন। ডিজ়েলের রফতানি বাড়াতে ভারতকে কোনও বরাত ক্রেমলিন দেয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।
