বৈশ্বিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক তিনটি শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির নীতিগত ও ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুরের বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি এবং জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে জ্বালানি গ্যাস সংগ্রহ করা হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ এবং ‘অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র পৃথক বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র ২০২৬ সালের ৫১তম সভায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব পাস হয়। উভয় পক্ষের পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত গ্যাস আমদানির সুযোগও এতে রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) দরের চেয়ে শূন্য দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার কমে। সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯(২) বিধির আলোকে প্রস্তাবটি গৃহীত হয় এবং বিপি সিঙ্গাপুরকে প্রস্তাবিত দরদাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
একই সভায় চলমান দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) চুক্তির ধারাবাহিকতায় কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয় কমিটি। ২০২৬ সালের ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহযোগ্য এই কার্গোর দাম ধরা হয়েছে জেকেএম দরের চেয়ে শূন্য দশমিক ১০ মার্কিন ডলার কম। বিদ্যমান চুক্তির বাইরে ভিন্ন মূল্যে এই অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহের জন্য কাতার এনার্জিকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে অনুমোদন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপস্থাপনায় ‘অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়। এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং জেরা গ্লোবাল মার্কেটসের মধ্যে একটি স্বল্পমেয়াদি বিক্রয়-ক্রয় চুক্তি ও শর্তপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করে তা স্বাক্ষরের পথ উন্মুক্ত হলো।
