ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ১৩০ নম্বর পশ্চিম রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর ওপর বিদ্যালয়সংলগ্ন পুকুরের পাড় ভেঙে ভবনের দেয়াল ঘেঁষে চলে আসায় যেকোনো সময় ভবনটি পুকুরে ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও পাঠদান কার্যক্রম চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৯৭৮ সালে পশ্চিম রসুলপুর গ্রামে ৪০ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয় একতলা পাকা ভবন। দীর্ঘ ৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও বিমের পলেস্তারা এবং কংক্রিট খসে পড়ে বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর, শ্রেণিকক্ষের অবস্থাও নাজুক।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, কিছুদিন আগে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদান চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও বিম থেকে পলেস্তারা-কংক্রিট খসে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের এমন বেহাল দশায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
এর মধ্যে বিদ্যালয় ভবনের পশ্চিম পাশে রাসেল মিয়া ও হক মিয়ার ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি পুকুরের পাড় ভেঙে ভবনের দেয়াল পর্যন্ত চলে এসেছে। ভবনের পেছনের অংশ পানির মধ্যে থাকায় যেকোনো সময় মাটি ধসে ভবনটি পুকুরে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুল্লাহ জানান, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ও নতুন পাকা ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নান্দাইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনোয়ারুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে একটি আবেদনপত্র পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে পুকুরের ভাঙন রোধ এবং বিদ্যালয়ে একটি নতুন পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
