নতুনপাতা
শারদ ১৪৩৩
গল্প
ছায়াসঙ্গী
মৌ চক্রবর্তী
১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
তখন রেডিয়োতে বাজছিল মহিষাসুরমর্দিনী। মহালয়া উপলক্ষ্যে ছুটি, চারপাশ জেগে। এরই মধ্যে ঘটে গেল ব্যাপারটা। কেমন করছে বুকটা, কেঁপে উঠছে ছোট্ট ঘরটায় মালা।
ঝুম মাঝরাতে কুমোরটুলির সেই ঘরটায় একা জেগে বসে রয়েছে মালা। এইটা দাদার ঘর। এখানেই কেটেছে ওদের কিশোরবেলা। দাদা ওর শুধু দাদা নয়—গুরু, বন্ধু, বাবার ভূমিকা, সব একা । সেই দাদা চলে গেল? বিশ্বাসই হচ্ছে না, মাত্র দুদিন হল।
এই মহালয়া মানেই যে রূপটান আর ব্যস্ততা—আজ তা স্তব্ধ। বুকটা ভারী লাগছে, মনে পড়ছে পুরানো ছবিগুলো। ঘরের ওই দিকে এক বালিকার প্রথম হাতেখড়ি। "মেয়েরা গড়বে মা-এর মূর্তি?"—কী ভীষণ আপত্তি ছিল সমাজের! একঘরে করে দিয়েছিল ওদের। কিন্তু দাদা ছিল অনড়। মেয়েরা এত কাজ করে, তবে প্রতিমা গড়বে না কেন? দুর্গা মা নিজেই তো মূর্তি গড়তেন। পালবংশ গর্ভে ধারণ করে যারা, তারা কাজের বেলায় বাদ?
স্মৃতির খাঁচায় তীব্র বিষাদের চাবুক এসে লাগল। ঠিক এরকমই এক পুজোর আগে বাবা চলে গিয়েছিলেন, আর এখন দাদাও। পিতৃহীন বালিকার একমাত্র আশ্রয় ছিল যে হাতদুটো, তা আজ মাটিতে মিশে গেল। সেই কবে থেকে মালা পাল কেবল দাদারই একটা গাঢ় ছায়া। নদীর ঘাটে স্নান করতে আসার দিনগুলোয় দাদার ছিল ও ছায়াসঙ্গী। এখন দাদা ওর ছায়া। তাড়া দিচ্ছে, ওঠ এই যে- মায়ের প্রতিমা নিয়ে যেতেই হবে। শোকের সময় নেই? মালা দাদার কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হাঁটতে শুরু করল।
