বালুরঘাটের নিউ টাউন ক্লাব ফের চমক দিতে তৈরিEi Samay
Published on
:
1 min read
রূপক সরকার, বালুরঘাট
আলোর মালায় জ্বলজ্বল করছে সাদা ধবধবে প্রেমমন্দির। ভিতরে ঢুকতেই চমক। ভেসে আসছে সন্ধ্যারতির সুর। সামনেই কালীয় নাগের ফণায় নৃত্যরত কিশোর কৃষ্ণ। মনে হবে, দুর্গাপুজো দেখতে এসে পৌঁছে গিয়েছেন কৃষ্ণের লীলাভূমি বৃন্দাবনে। বালুরঘাট থেকে সড়কপথে বৃন্দাবনের ১৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের ব্যবধান খুঁচে যাবে এক লহমায়।
বালুরঘাটের পুজোর মানচিত্রে নিউ টাউন ক্লাব মানেই চমক। কখনও বুর্জ খলিফা, কখনও অযোধ্যার রামমন্দির। গতবার তারা করেছিল অপারেশন সিঁদুর। এ বার একটু অন্যরকম। ভক্তির, প্রেমের, আধ্যাত্মিকতার। মণ্ডপজুড়ে কৃষ্ণকথা। প্রায় ৮০ ফুট উঁচু এই মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে সানপ্যাক বোর্ডের উপরে ফোমের সূক্ষ্ম কারুকাজে। দায়িত্বে বালুরঘাটের পরিচিত শিল্পী বিপ্লব সরকার ও তাঁর কল্পনা ডেকোরেটরস। ফোম কেটে কেটে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে প্রেমমন্দিরের জটিল স্থাপত্য, থাম, গম্বুজ আর কারুকার্য। ভিতরে ঢুকলে শুধু দুর্গা প্রতিমা নয়, গোটা মণ্ডপ জুড়ে ছড়িয়ে থাকবে কৃষ্ণলীলার গল্প।
একদিকে কালীয় দমন, অন্যদিকে গোপীদের সঙ্গে রাসলীলা, মাঝখানে গোবর্ধন ধারণ। প্রতিমার মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে উঠবে পুরাণ। প্রতিমা গড়ছেন মৃৎশিল্পী অমিত পাল, যিনি থিমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাবেকি দুর্গার সঙ্গে কৃষ্ণ ভাবনাকেও মিলিয়ে দিচ্ছেন। আয়োজনে কোনও খামতি রাখেনেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বাজেট প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। জেলার সবচেয়ে বড় বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। আর সন্ধ্যা নামলেই শুরু হবে আসল জাদু। চন্দননগরের চোখ ধাঁধানো আলোয় প্রেম মন্দির ঝলমল করে উঠবে।
ক্লাব সম্পাদক অরিজিৎ মহন্ত বলেন, 'আমরা চাই মানুষ পুজো দেখতে এসে একটা বার্তা নিয়ে ফিরুক। গত কয়েক বছর আমরা দর্শনার্থীদের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছি। এ বার আমরা চাই মানুষ একটু ভক্তিরসে ডুব দিক। আমাদের মণ্ডপে এলে মনে হবে সত্যিই বৃন্দাবনে এসেছেন।' ক্লাবের সভাপতি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার নিজে উদ্বোধন করবেন এই মণ্ডপের। উদ্যোক্তাদের আশা, এ বার শুধু বালুরঘাট নয়, উত্তরবঙ্গের দর্শনার্থীদের কাছেও এই প্রেম মন্দিরই হবে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।