বিশ্বের ব্যস্ততম অভিবাসন পথগুলোর একটি আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় রুট। প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ এ পথ ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোয় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তাদের বেশির ভাগই ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিক। এসব অভিবাসীর প্রধান গন্তব্য সৌদি আরব
জিবুতির উপকূলে ৩০৫ জন অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫টি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
বিশ্বের ব্যস্ততম অভিবাসন পথগুলোর একটি আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় রুট। প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ এ পথ ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোয় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তাদের বেশির ভাগই ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিক। এসব অভিবাসীর প্রধান গন্তব্য সৌদি আরব।
দুর্ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে, লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই চললেও অভিবাসন অব্যাহত রয়েছে।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বরাতে আইওএম জানায়, ৮-৯ অক্টোবর রাতে জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে নৌকাটি ডুবে যায়। মাছ ধরার জন্য পরিচিত ওবক শহরের উত্তরে গুহেরে এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাডুবির পর ৮২ জন প্রাণে বেঁচে যান। তারা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক।
হর্ন অব অফ্রিকা অঞ্চল থেকে আরব উপদ্বীপে অভিবাসনের জন্য ব্যবহৃত পূর্বাঞ্চলীয় রুটে নথিভুক্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনাগুলোর একটি এটি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জিবুতিতে আইওএমের মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কইসাক বলেন, ‘এটি প্রাণহানির এক ভয়াবহ ঘটনা। যারা প্রাণে বেঁচেছেন এবং যেসব পরিবার তাদের স্বজনদের হারিয়েছে কিংবা এখনো স্বজনদের কোনো খবর পায়নি, তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা।’
ওবক শহরে আইওএমের অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে ৬৪ জন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে চিকিৎসাসেবা, মানসিক সহায়তা, খাবার ও অন্যান্য সহযোগিতা দিচ্ছে সংস্থাটি।
জরুরি সহায়তা দিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে আইওএম। জিবুতির কর্তৃপক্ষ এখনো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে এবং নিহতদের দাফনের আয়োজন করছে।
এসব অভিবাসন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ সংঘাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিজেদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। অন্যরা কাজ ও উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে এ পথে যাত্রা করেন।
হর্ন অব আফ্রিকা থেকে অভিবাসনের অধিকাংশই এ পূর্বাঞ্চলীয় রুট দিয়ে হয়। অন্য দুটি প্রধান পথের একটি উত্তরাঞ্চলীয় রুট, যা উত্তর আফ্রিকা ও ইউরোপে যায়। অন্যটি দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট, যা দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে বিস্তৃত।
পূর্বাঞ্চলীয় রুটটি বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন পথগুলোর মধ্যেও অন্যতম। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ পথ হেঁটে চলতে গিয়ে অনেকে মারা যান। আবার লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য মানবপাচারকারীদের গাদাগাদি করে বোঝাইকৃত নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
আইওএমের নিখোঁজ অভিবাসীবিষয়ক প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে এ পথে ৯০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে এ পথে যাত্রা করা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১৮ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চে অভিবাসীবাহী আরেকটি নৌকা ডুবে নয়জন মারা যান এবং ৪৫ জন নিখোঁজ হন।
জিবুতির শরণার্থী ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তাবিষয়ক দপ্তর ওনার্সের তথ্যানুযায়ী, সহিংসতার কারণে সুরক্ষার সন্ধানে ৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।
