রক্তশূন্যতায় অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিমানে করে ঢাকায় নেওয়ার পর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) তার চিকিৎসা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক ডিকেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই অসুস্থতাবোধ করছিলেন ভূমিমন্ত্রী। বুধবার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
অসুস্থতার মধ্যেও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন ভূমিমন্ত্রী। হাসপাতালের শয্যায় থেকেও রাজশাহীর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরেও গিয়েছিলেন তিনি।
নিজের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন ভূমিমন্ত্রী। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, আমি অসুস্থ। সুস্থতার জন্য প্রিয় রাজশাহীবাসীসহ সারা দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। যাতে আল্লাহ তায়ালা আমাকে সুস্থতা দান করেন। দ্রুত সুস্থ হয়ে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারি।
উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর এখন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে রামেক হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার রাতে মহানগর জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও হাসপাতালে তাকে দেখতে যান। এ সময় তারা মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা ছাপিয়ে অসুস্থ ভূমিমন্ত্রীর পাশে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের চিত্র ফুটে ওঠে।
জুবায়ের জিসান/এএমকে
