The Sangbad · আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে টানা তিন দিন কমল সোনার দাম
১৫/১০/২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন দিন ধরে অব্যাহতভাবে কমছে সোনার দাম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে চার হাজার ১৪০ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমে এসেছে।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের সোনার ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক তিন শতাংশ কমে প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে চার হাজার ১৬২ ডলার ৮০ সেন্টে। আন্তর্জাতিক বাজারদর ও ডলারের আনুমানিক বিনিময়মূল্য প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে, স্পট মার্কেটে প্রতি ভরি খাঁটি বা ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় এক লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফিউচার মূল্যে তা প্রায় এক লাখ ৯২ হাজার টাকা হয়।অবশ্য মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের বাজারে ভরিপ্রতি সোনার প্রকৃত দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্যারেট, আমদানি ব্যয়, মজুরি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত হয়ে থাকে।বিশ্ববাজারে সোনার দাম হ্রাসের পেছনে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষাকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআইয়ের নতুন তথ্যের দিকে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে রয়েছেন, যার ওপর নির্ভর করবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত।এ বিষয়ে বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় অনেক ব্যবসায়ী আপাতত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।"তার মতে, এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন ডলারের দামে পরিবর্তন আসতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সোনাসহ ডলারের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের সিপিআইয়ের তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি আগামীতে উৎপাদক মূল্যসূচক ও খুচরা বিক্রির ডেটাও প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার খবরের জেরে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান নতুন কৌশলে তেলের জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন প্রতিবেদনে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারে। সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে থাকলে সোনা বা এ জাতীয় সুদহীন সম্পদের আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়।তবে বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা মনে করেন, ডলারের দাম সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যখন দুর্বল হতে শুরু করবে, তখন সোনার বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ দিকে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে চার হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ৭০০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।তবে এটি সম্পূর্ণভাবে একটি বাজার পূর্বাভাস এবং পরবর্তী দামের ওঠানামা মূলত মার্কিন মূল্যস্ফীতির ডেটা ও ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। সোনার পাশাপাশি বুধবার বিশ্ববাজারে রুপা ও প্লাটিনামের দামও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে; স্পট মার্কেটে রুপার দাম এক দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ ডলার ৫৭ সেন্টে এবং প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমে এক হাজার ৬৫৩ ডলার ১৮ সেন্টে নেমেছে, তবে এর বিপরীতে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স এক হাজার ১৩২ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছেছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗