ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন-থার্মাল ইমেজার
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে চোরাকারবার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক বিজিবি
তবে ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে:কর্ণেল এসএম খাইরুল আলম বলেন, বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত সুরক্ষায় সদা প্রস্তুত। অনুপ্রবেশ ও চোরাকারবারসহ সব ধরণের বেআইনী কাজ সীমান্তে হবে না।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাইক্ষ্যংছড়ির এই সীমান্তে দায়িত্বে থাকা ৩৪ ও ১১ বিজিবির মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য বেরিয়ে আসে।
সূত্র দাবী করেছে, তারা শুধু বিদ্রোহী নয়, মাদক ও অন্যান্য পণ্য পাচার ঠেকাতেও প্রস্তুত। বিষয়টি বিজিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেন।
সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তা হুমকি রুখতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি বহুগুণ জোরদার করেছে তারা।
বিজিবি সদর দফতর ও স্থানীয় ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তে এসে পড়ার পর থেকেই বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি আরাকান আর্মির গতিবিধি এবং তাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কায় সীমান্ত জুড়ে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ড্রোন ও আধুনিক থার্মাল ইমেজার প্রযুক্তির সাহায্যে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি কোনো আপস করবে না। আরাকান আর্মি বা মিয়ানমারের যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের যেকোনো ধরনের চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। একই সাথে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশি নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৩৫ পিলার থেকে ৫৪ সীমান্ত পিলার এলাকার ১০ টি পয়েন্টে মাদক ও গবাদি পশু চোরাকারবারীরা সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন আঙ্গিকে পাচার শুরু করতে। বিশেষ করে বাইশফাড়ি, তুমব্রু, জামছড়ি, ফুলতলী, লেবুছড়ি ও পাইনছড়ি পয়েন্টের কারবারীরা এখন সক্রিয়।
এ বিষয়ে ১১ বিজিবি অধিনায়কের সাথে বারবার ফোন করেও সংযোগ না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয় নি।
তবে ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে:কর্ণেল এসএম খাইরুল আলম বলেন, বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত সুরক্ষায় সদা প্রস্তুত। অনুপ্রবেশ ও চোরাকারবারসহ সব ধরণের বেআইনী কাজ সীমান্তে হবে না। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত রোববার ১১ অক্টোবর এ প্রযুক্তিতে ধরা পড়ে ২ লাখ বার্মিজ ইয়াবা সহ ২ রোহিঙ্গাকে আটক করে ৩৪ বিজিবি সদস্যরা।
