‘টপ গান’ ও ‘এলিয়েন’ অভিনেতা টম স্কেরিট আর নেই
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
হলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা টম স্কেরিট মারা গেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) ৯৩ বছর বয়সে স্বাভাবিক কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। ‘এলিয়েন’, ‘টপ গান’, ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’ ও টেলিভিশন সিরিজ ‘পিকেট ফেন্সেস’-এ অভিনয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন এই অভিনেতা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টম স্কেরিটের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে তার পরিবার। এক বিবৃতিতে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তার চলে যাওয়ায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বিশ্ব তাকে তার অসাধারণ অভিনয়জীবনের জন্য চিনলেও আমরা তাকে চিনতাম তার রসবোধ, জানার আগ্রহ, প্রজ্ঞা, উদারতা এবং আমাদের জীবনে ছড়িয়ে দেওয়া ভালোবাসার জন্য।
১৯৩৩ সালের ২৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে জন্মগ্রহণ করেন টম স্কেরিট। অভিনয়ে আসার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে কাজ করেছেন। ১৯৬২ সালে মুক্তি পাওয়া যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওয়ার হান্ট’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। ছবিটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন রবার্ট রেডফোর্ড। পরে ১৯৭০ সালে রবার্ট অল্টম্যানের ‘এমএএসএইচ’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি।
ছয় দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে অসংখ্য চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় কাজ করেছেন স্কেরিট। ১৯৭৯ সালে রিডলি স্কট পরিচালিত কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক ভৌতিক চলচ্চিত্র ‘এলিয়েন’-এ ক্যাপ্টেন আর্থার ডালাস চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। ছবিটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন সিগর্নি উইভার।
১৯৮৬ সালের ব্লকবাস্টার ‘টপ গান’-এ টম ক্রুজের বিপরীতে কমান্ডার মাইক ‘ভাইপার’ মেটকাফ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’ চলচ্চিত্রে ড্রাম ইটেনটন চরিত্রেও প্রশংসিত হন। ছবিটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন স্যালি ফিল্ড, জুলিয়া রবার্টস ও ডলি পার্টন।
টেলিভিশনেও সফল ছিলেন স্কেরিট। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রচারিত সিবিএসের সিরিজ ‘পিকেট ফেন্সেস’-এ শেরিফ জিমি ব্রকের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৯৩ সালে ড্রামা সিরিজে সেরা প্রধান অভিনেতা বিভাগে প্রাইমটাইম এমি পুরস্কার পান।
তার উল্লেখযোগ্য অন্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘দ্য টার্নিং পয়েন্ট’, ‘আ রিভার রানস থ্রু ইট’ ও ‘কনট্যাক্ট’।
অভিনয়ের বাইরেও চলচ্চিত্র ও গল্প বলার চর্চায় অবদান রেখেছেন স্কেরিট। নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গল্পকারদের সহায়তায় সিয়াটলে ‘দ্য ফিল্ম স্কুল’ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি। এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের মানসিক আঘাত, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা মোকাবিলায় লেখালেখি ও গল্প বলার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ ‘রেড ব্যাজ প্রজেক্ট’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্দায় জীবন্ত করে তোলা চরিত্রগুলোর পাশাপাশি মানুষের জীবনে গল্পের ইতিবাচক ভূমিকার ওপর বিশ্বাসের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন স্কেরিট। তার প্রতিভা, সততা, জানার আগ্রহ ও সহমর্মিতা পরিবার, অভিনয়জগৎ এবং যেসব মানুষের পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন, তাদের ওপর স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
মৃত্যুকালে স্ত্রী জুলি তোকাশিকি, পাঁচ সন্তান, পাঁচ নাতি-নাতনি এবং দুই প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রেখে গেছেন টম স্কেরিট। তার স্মরণসভা বা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন সম্পর্কে পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে পরিবার। এবিসি
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
