নরসিংদী: নরসিংদীর মাধবদীতে পরকীয়া প্রেম ও সংসার চালানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক কলহের জের ধরে রেহানা বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী জসিম উদ্দিন আত্মগোপনে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মহিষাসুরা ইউনিয়নের হামটি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহতের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহত রেহানা বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। অভিযুক্ত জসিম স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, টেক্সটাইল শ্রমিক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে অন্য এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বিরোধ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল। এর ওপর জসিম উদ্দিন কিছুদিন ধরে বেকার হয়ে পড়ায় সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানো নিয়েও তাদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ হতো।
ঘটনার দিন মঙ্গলবার সকালে তাদের দুই মেয়ে আরবি পড়তে স্থানীয় মক্তবে চলে যায়। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনরায় বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জসিম উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে স্ত্রী রেহানা বেগমের মাথায় শক্ত বস্তু দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, “পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
