Published on
:
2 min read
সম্প্রতি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-তে এসে বাবা রণধীর কাপুরের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি গুকুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী করিনা কাপুর খান। তিনি জানান, তাঁর বাবা অর্থাৎ, বর্ষীয়াণ অভিনেতা রণধীর কাপুর এখন ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর স্মৃতিশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। করিনার এই বক্তব্যের পরেই বার্ধক্যজনিত ডিমেনশিয়া এবং স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার নানা দিক নিয়ে চিকিৎসকদের মতামত উঠে এসেছে।
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিমেনশিয়া কোনও একটি রোগ নয়। এটি মূলত কিছু উপসর্গের সমষ্টি যা মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তা করার ক্ষমতা, যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করার দক্ষতাকে প্রভাবিত করে। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বাড়তে থাকে। তবে বয়স হলেই যে সকলের ডিমেনশিয়া হবে, এমন কোনও বাঁধাধরা নিয়ম নেই।
ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?
শুরুর দিকে ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলো খালি চোখে প্রায় বোঝাই যায় না। ভুলো মন, বার্ধক্যজনিত সমস্যা বলে মনে হতেই পারে। তবে যে বিষয়গুলোতে পরিবারের নজর রাখা উচিত তা হলো:
বারবার একই প্রশ্ন করা।
সাম্প্রতিক কথাবার্তা মনে রাখতে সমস্যা হওয়া।
চেনা পরিচিত জায়গাতেও বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া।
দৈনন্দিন কাজকর্ম ও হিসাবপত্র পরিচালনা করতে অসুবিধা হওয়া।
হঠাৎ মেজাজ বিগড়ে যাওয়া বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
বয়স হলে পুরোনো কথা মনে করতে একটু বেশি সময় লাগতেই পারে। কিন্তু ডিমেনশিয়ায় স্মৃতিভ্রম এবং অন্যান্য মানসিক দক্ষতা দৈনন্দিন কাজকে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত করে। তাই এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা, কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট এবং ব্রেন ইমেজিং করানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ অনেক সময় ভিটামিনের অভাব, থাইরয়েড বা ডিপ্রেশনের মতো সমস্যার কারণেও স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে, যা চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য।
পরিবারের করণীয় কী?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণকে শুধু বার্ধক্যজনিত ভেবে অবহেলা না করে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রোগীর দৈনন্দিন রুটিন ঠিক রাখা, নিরাপদ শারীরিক কার্যকলাপ ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় উৎসাহিত করা এবং একটি সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করাই এই সময়ে রোগীর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রধান দায়িত্ব।