সৌদি আরবের চারটি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বজ্রসহ বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও দমকা বাতাসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ রোববার এ সতর্কতা জারি করে। সতর্কতার আওতায় রয়েছে জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা অঞ্চলের কিছু এলাকা।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি এবং শক্তিশালী বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাতাসের কারণে ধুলা ও বালু উড়ে চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও উপত্যকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত জমে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চার অঞ্চলের সব এলাকায় একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করবে না। নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ভারি বৃষ্টির আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্য কয়েকটি স্থানে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তাই অঞ্চলভেদে আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানা জরুরি।
বৃষ্টির পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় কুয়াশার আশঙ্কাও রয়েছে। জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কার কিছু অংশে কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাতেও কুয়াশার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে, যা যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে দেশটির বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রার পার্থক্যও লক্ষ করা যাচ্ছে। পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। মক্কায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি এবং রাজধানী রিয়াদ ও বুরাইদাহতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। মদিনায় ৩৭ ডিগ্রি এবং জেদ্দা ও জাজানে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পূর্বাভাস রয়েছে।
এ ছাড়া হেইলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি, আরার, সাকাকা ও নাজরানে ৩২ ডিগ্রি এবং তাবুকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় তুলনামূলক কম তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আভাতে ২৫ ডিগ্রি এবং আল-বাহায় ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকতে পারে।
আর্দ্রতার মাত্রাও কয়েকটি শহরে বেশি থাকতে পারে। আভা, আল-বাহা ও জাজানে আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জেদ্দা ও দাম্মামে তা ৮৫ শতাংশ এবং মক্কায় ৮০ শতাংশ হতে পারে।
বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বিবেচনায় সতর্ক এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। বৃষ্টির সময় জলপ্রবাহপূর্ণ উপত্যকা ও নিচু এলাকা এড়িয়ে চলা এবং কুয়াশার মধ্যে যানবাহন চালানোর সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
