Published on
:
2 min read
রূপক মজুমদার
ফাইমোসিস অপারেশন করাতে গিয়ে অরণ্য রায়ের (৪) মৃত্যুর ঘটনায় এ বার অ্যানাস্থেটিস্ট বনোজকুমার দে-কে গ্রেপ্তার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। সোমবার রাতে বোলপুরের একটি একটি রিসর্ট থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। জানা গিয়েছে, ধরা পড়ার ভয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন না তিনি। তাঁর গাড়ি ট্র্যাক করেই অ্যানাস্থেটিস্টের খোঁজ পায় পুলিশ। ধৃতকে মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে তোলা হবে জানা গিয়েছে। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় এই নিয়ে অভিযুক্ত ভুয়ো ডাক্তার শেখ সায়দুল হক-সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
এর আগে গত মঙ্গলবার দিল্লি বিমানবন্দরে ধরা পড়ে মূল অভিযুক্ত ভুয়ো চিকিৎসক শেখ সায়দুল হক। বর্ধমানের নার্সিংহোমে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পরই দুবাইয়ে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন সায়দুল। স্ত্রী অলিভিয়া খাতুনকে নিয়ে ফের দুবাইয়ে ফেরার পরিকল্পনা করে দিল্লি নামতেই দিল্লি পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার বিশেষ দল। গ্রেপ্তারি এড়াতে একগাল দাড়ি কেটে ফেললেও শেষরক্ষা হয়নি। গত বুধবার সকালে বর্ধমান আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। সায়দুলের বিরুদ্ধে আগের মামলার পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩(১) (খুন), ১০৫ ও ৬১(২) ধারায় অপরাধমূলক নরহত্যা ও ষড়যন্ত্রের মামলাও রুজু করা হয়েছে।
সন্তানহারা মায়ের আক্ষেপ ও বেদনা এখনও কাটেনি। দাদু-দিদিমা ও বাবা জয়ন্ত রায়কে নিয়ে মন্তেশ্বরের বাপের বাড়িতে শোকাচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছেন মা শিল্পা রায়। গত বুধবার ক্ষোভ প্রকাশ করে শিল্পা বলেছিলেন, ‘অ্যানেস্থেটিস্ট বনোজকুমার দে-কেও সবচেয়ে বেশি দায়ী বলে মনে হচ্ছে। ও তো অপারেশন শেষ না হতেই বেরিয়ে গিয়েছিল, কারণ ও বুঝতে পেরেছিল ওষুধের মাত্রা অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। ছোট একটা অপারেশন বলে আমাদের না জানিয়েই অজ্ঞান করা হয়েছিল। ছেলেকে বের করে আনার পর দেখি ওর শরীর নীল হয়ে গিয়েছে। ওই ভুয়ো চক্রের দালাল কৌশিক দত্তের খপ্পরে পড়ে আমরা কসাইদের হাতে ছেলেকে তুলে দিয়েছিলাম। ওদের হাত দুটো যদি কেটে বাদ দেওয়া হয়, তা হলে খুব খুশি হব। ওই হাত দিয়ে যেন আর কোনও খুন করতে না পারে।’
উল্লেখ্য, ফাইমোসিস অস্ত্রোপচারের পরে চার বছরের অরণ্য রায়ের মৃত্যু হয়েছিল বর্ধমানের ওই নার্সিংহোমে। ২ সেপ্টেম্বর হওয়া সেই অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন সায়দুল। অ্যানেস্থেটিস্ট ছিলেন বনোজকুমার দে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হতেই প্রকাশ্যে আসে অভিযুক্ত সায়দুল আসলে ভুয়ো চিকিৎসক। তিনি বিহার থেকে ডাক্তারির ভুয়ো শংসাপত্র জোগাড় করেছিলেন। অভিযোগ, পরে প্রভাবশালীদের ধরে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর আদায় করে চিকিৎসার নামে ব্যবসা ফেঁদে বসেন।
১৫ সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল সায়দুল-সহ পাঁচ ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে। কলকাতার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়। এর পরেই রাতারাতি উধাও হয়ে যান সায়দুল। ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে খুঁজে বের করতে ‘লুক আউট নোটিস’ জারি হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার এক নার্সিংহোম মালিকের সহায়তায় সায়দুল চলে যান দুবাইয়ে। প্রথমে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে, কিন্তু ভিসা এবং অন্য কিছু বিষয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সিদ্ধান্ত পাল্টে দুবাইয়ে যান সায়দুল। ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ নিয়ে ২৮ দিন দুবাইয়ে কাটান তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন হোয়াটসঅ্যাপে।
