Published on
:
2 min read
দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি
দেশভাগের যন্ত্রণা, উদ্বাস্তু পরিবারের নতুন করে বাঁচার লড়াই আর মাতৃদর্শনের টান। এই তিনের মেলবন্ধনেই ১৯৪৭-এ পথচলা শুরু। বাঁশ, খড় আর খবরের কাগজে তৈরি ছোট্ট মণ্ডপ থেকে আজ সাত লক্ষ টাকার থিমপুজো। দেখতে দেখতে ৭৯ বছরে পা দিল জলপাইগুড়ি আদরপাড়ার দুর্গোৎসব।
১৯৪৭-এ সদ্য স্বাধীনতার আনন্দে মাতোয়ারা দেশ। অন্য দিকে দেশভাগের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে এ পারে আশ্রয় নিচ্ছে বহু পরিবার। সেই সময়ে আদরপাড়াতেও এসে বসতি গড়েন অনেকে। আশপাশে রামকৃষ্ণ মিশন ছাড়া আর কোনও পুজো ছিল না। ফলে মাতৃদর্শন এবং অঞ্জলি দিতে বাসিন্দাদের যেতে হতো আশ্রমপাড়ায়। তাই আদরপাড়ায় দুর্গাপুজোর সূচনা করেন সুনীতিকুমার রায়চৌধুরী। পাশে ছিলেন তাঁর বন্ধু রাখাল কর, রথী বিশ্বাস, সুরেশ সাহা, অসিত দত্ত, হেমন্ত মহন্ত, দ্বিজেন মুন্সি-সহ অনেকেই।
সেই সময়ের পুজোয় চার দিন চলত যাত্রাপালা, বসত ছোট্ট মেলাও। ছয়-সাত বছর পর পুজো চলে আসে এখনকার প্রাঙ্গণে। স্মৃতির পাতা উল্টে এ কথাই জানান সুনীতিকুমারের নাতি ও আদরপাড়া পাঠাগার ও উন্নয়ন সমিতির প্রাক্তন সভাপতি দীপককুমার দাস। সমিতি পরিচালিত সর্বজনীন দুর্গোৎসব এ বার ৭৯তম বর্ষে। গত ৩২ বছর ধরে এখানে হচ্ছে বড় বাজেটের থিমপুজো।
এগজ়িকিউটিভ কমিটির সদস্য উজ্জ্বল বক্সীর কথায়, 'আশপাশের ক্লাবগুলির বড় বাজেটের থিমপুজো দেখে পাড়ার তরুণদের মধ্যেও বড় আয়োজনের ইচ্ছা জাগে। তাঁরা প্রবীণদের কাছে প্রস্তাব দিলে সকলেই সম্মতি জানান। তার পরে গ্রামবাংলা, লালমাটির দেশ, কোচবিহারের রাজবাড়ি, থিনসাস টেম্পল ও ডুয়ার্সের পাহাড়ের মতো নানা থিম করা হয়েছে।'
এ বারের ভাবনা 'বাংলার চিত্রকলা'। গামছা, পাখা ও হাঁড়ির চিত্রকলায় সাজবে মণ্ডপ। প্রতিমা গড়া হচ্ছে পটচিত্রের আদলে। নির্মাণে জলপাইগুড়ির মৃৎশিল্পী লিটন পাল। মণ্ডপসজ্জা ও আলোয় অরূপ নন্দী এবং চিত্রশিল্পী বিজয় রায়। যুগ্ম সম্পাদক দেবরাজ সাহা জানান, এ বার বাজেট প্রায় সাত লক্ষ টাকা। আয়োজন এখন শেষ পর্যায়ে। পুজো কমিটির সভাপতি উজ্জ্বলকান্তি গুন বলেন, 'চতুর্থীতে ৫০টি ঢাক ও আতশবাজি-সহ শোভাযাত্রায করে প্রতিমা নিয়ে আসা হবে। পঞ্চমীতে উদ্বোধন। চার দিন ধরে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।'