বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে নির্ধারিত দামের বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। গতকাল সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য জানান। এলপিজি’র সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জ্বালানি বিভাগ সব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভা করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ওই সভায় এলপিজি’র বাজার তদারকি ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে নানা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলা প্রশাসক তার জেলার সব এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করবেন। সংশ্লিষ্ট অপারেটর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি, মাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজি, ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলার কতো পরিমাণ এলপিজি পেয়েছেন, সেই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত পরিচয় যতটা সম্ভব সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকেরা অবিলম্বে নিজ নিজ জেলার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের সঙ্গে সভা করবেন। ওই সভায় জেলার এলপিজি সরবরাহ, বিতরণ ও বাজারজাতকরণের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। সরকারের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এলপিজি সরবরাহের পুরো ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ (চ্যানেল) থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যাতে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায় শনাক্ত ও যাচাই করা যায়। কোনো অপারেটর, ফ্র্যাঞ্চাইজি বা ডিস্ট্রিবিউটরের দেয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ডিলারের পাওয়া এলপিজি’র পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য থাকলে তা আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
সংগৃহীত তথ্যে কোনো এলাকায় এলপিজি’র সরবরাহে অস্বাভাবিক ঘাটতি, সরবরাহব্যবস্থায় কোনো বিচ্যুতি কিংবা অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে তা জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জাহেদ উর রহমান বলেন, জেলা পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে এলপিজি’র অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থার একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে তদারক করা সম্ভব হবে।
সহিংসতা উস্কে দিতে আ. লীগের যে প্রকাশ্য চেষ্টা, তাতে রিকনসিলিয়েশনের প্রশ্নই আসে না: দেশের ভেতর সন্ত্রাস এবং নানা রকম সহিংসতা উস্কে দেয়ার চেষ্টা প্রকাশ্য তাদের দলের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ) প্রধান করে থাকেন, তাতে সরকারের দিক থেকে রিকনসিলিয়েশনের ইনিশিয়েটিভ নেয়ার প্রশ্নই আসে না-বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা। ডা. জাহেদ বলেন, রিকনসিলিয়েশন নিয়ে গত সপ্তাহে যা বলেছি-তা একটু ক্লারিফাই করা দরকার। আমি বলেছিলাম যে, ৫ই আগস্টের পরে এই আলাপটা অনেকে করেছেন। এটা শুনতে খারাপও মনে হয় না। যে ফান্ডামেন্টাল আছে, খুবই বেসিক যে, রিকনসিলিয়েশনের জন্য, প্রথমত একটা কথা বলে রাখা ভালো, মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ যারা করেছেন, তাদের বিচার তো হতেই হবে, এটা ক্রিমিনাল অফেন্স। রিকনসিলিয়েশনের আলাপ হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে, কোনো কোনো জায়গায়, কারও কারও অপরাধের ক্ষেত্রে। তিনি আরও বলেন, আমি বলেছিলাম যে, একটা দল মানবতাবিরোধী অপরাধ করে চলে গেছে, তার জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অনুতপ্ত হওয়ার লক্ষণ নেই। উপরন্তু এটা আরও জরুরি কথা, তারা নানা রকম কেওয়াজ করার চেষ্টা করছে। নানা রকম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা করার ঘটনাকে সরকার ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ টেনে উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, (জুলাই) আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ঘটনাকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে। জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখানে বিমানবন্দরে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়াটাই হেনস্তার চেষ্টার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ড. ইউনূসের সরকারের কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে।
তিনি নিজেও দেশে বসে সেই সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এ ধরনের হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়। তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এর আগে হেনস্তার শিকার অভিনেত্রীর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের যে ভিভিআইপি মর্যাদা পাওয়ার কথা, তাতে ঘাটতি ছিল কিনা, তা সরকার খতিয়ে দেখবে। এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রত্যেক গণমাধ্যমের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ঘটনা ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে। তবে কেউ আইনি সীমা লঙ্ঘন করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। অপসাংবাদিকতা মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রেস কাউন্সিলের আইন পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে চলছে।
