সান্দাকফুতে গিয়ে ফের মৃত্যু পর্যটকের। এবার প্রাণ হারালেন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম বুবাই পাল। সান্দাকফুর টুমলিংয়ে মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়েছে।ওই ঘটনা নিয়ে একমাসে দু’জন পর্যটকের মৃত্যু হল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উঁচু রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে। সাধারণত অক্সিজেনের অভাবে ওই পর্বতশৃঙ্গে বেড়াতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন পর্যটকরা। এবারও কি সেই কারণেই মৃত্যু? অমরনাথ যাত্রার আগে পর্যটকদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। তাহলে সান্দাকফুর ক্ষেতরে কেন তেমন হবে না? বিভিন্ন মহলে সেই প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার সান্দাকফুর টুমলিংয়ে পৌঁছে বারাসতের পর্যটক বছর ৪৮ বয়সী বুবাই পালের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। প্রথমে তাঁকে মানেভঞ্জন এবং সেখান থেকে সুখিয়াপোখড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে নিয়ে ১৮ অক্টোবর মানেভঞ্জন পৌঁছন বুবাই। ১৯ অক্টোবর সান্দাকফুতে রাত্রিবাস করে পরদিন কিছুটা নীচে নেমে টুমলিংয়ের একটি হোমস্টে-তে উঠেছিলেন। রাতে খাওয়া শেষে তিনি ঘুমোতে যান। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিকের জানান, ময়নাতদন্তের পরে বুবাই পালের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বারাসত ফেরার সমস্ত ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
ঘটনাটি জানার পরই সিঙ্গালীলা ল্যান্ড রোভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত মানেভঞ্জন এবং সেখান থেকে সুখিয়াপোখরি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান৷ সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দার্জিলিং সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই ঘটনার পর ঘটনার পর সিঙ্গালীলা ল্যান্ড রোভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন প্রধান বলেন, “পুজোর মরশুমে সান্দাকফু পর্যটকের ভিড়ে ঠাসা থাকে৷ প্রায় সব গাড়িই বুকড। ফলে মাঝরাতে অথবা আচমকা কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তৎক্ষণাৎ গাড়ির বন্দোবস্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করা এখন জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও জানান, একের পর এক এই ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে সান্দাকফুতে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলা দরকার। অসুস্থ হয়ে পড়া পর্যটকদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে যদি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা যায় তবে হয়তো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা প্রিয়তোষ অধিকারীর একইভাবে শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়। অহলদাড়া এলাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে জানা গিয়েছে, ২৮ বছরের যুবকের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় বিপত্তি ঘটে।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিকের জানান, ময়নাতদন্তের পরে বুবাই পালের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বারাসত ফেরার সমস্ত ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা প্রিয়তোষ অধিকারীর একইভাবে শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়। অহলদাড়া এলাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে জানা গিয়েছে, ২৮ বছরের যুবকের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় বিপত্তি ঘটে।
দার্জিলিঙের মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু যাওয়ার পথের নৈসর্গিক দৃশ্য ভ্রমণপিয়াসীদের বরাবরের আকর্ষণীয়। কিন্তু উচ্চতার কারণে অক্সিজেনের অভাবে সেই যাত্রা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সিঙ্গালীলা ল্যান্ড রোভার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, ঝুঁকি এড়াতে পর্যটকদের কিছু নিয়ম মানতেই হবে। সংস্থার অভিযোগ, একের পর এক দুর্ঘটনার পর একাধিকবার বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা প্রশাসনকে জানানো হলেও, তা নিয়ে এখনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
